নতুন কুঁড়ি থেকে সংবাদজগত— বহুমাত্রিক প্রতিভার উজ্জ্বল নাম সাবরিনা শাকা মীম।
শৈশবে শুরু হয়েছিল তাঁর মিডিয়া-জীবনের যাত্রা, গান দিয়ে। বিটিভির ছোটদের গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিচিতি পেলেও তিনি আসল জনপ্রিয়তা পান ১৯৯৫ সালে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে। শুধু একটি বিভাগে নয়— নাচ, গান ও অভিনয় তিনটি বিভাগেই ছিলেন সেরা। শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা।
অভিনয় জীবন শুরু হয় মাত্র ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময়, নওয়াজেশ আলী খানের বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘হাসিখুশি’ দিয়ে।
এরপর ১৯৯৪ সালে মাহবুবুল আলম পরিচালিত ‘আত্মজা’ নাটকে ‘অন্তি’ চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করেছিল দর্শককে।
১৯৯৫ সালে শিশু নাট্যোৎসবে ‘এক যে ছিল টুঁই’ নাটকে ‘টুঁই’ চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছিলেন অসাধারণ জনপ্রিয়তা।
আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে অর্জন করেন ৩য় স্থান।
পড়াশোনা করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ১৯৯১ সালে ভর্তি হন এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে ভর্তি হতে পারেননি। পরবর্তীতে সুযোগ পেয়েও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি। শেষমেশ ভর্তি হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে।
আজ তিনি টিভি নাটক থেকে সরে এসে ক্যামেরার সামনেই থাকেন, তবে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে। এটিএন নিউজ-এ তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত সংবাদ পাঠিকা। তাঁর উচ্চারণ, ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা দর্শকের আস্থা অর্জন করেছে।
ব্যক্তিজীবনে মীম ছিলেন ডা. শাহরিয়ার আহমেদ সজীবের স্ত্রী (বিবাহ: ৭ ডিসেম্বর ২০১২)। তবে সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। বর্তমানে তিনি থাকেন ঢাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গেই। তাঁর বাবা ডা. কে.এস.এম. শামীম, মা ডা. কাওসার পারভীন লিপি, এবং একমাত্র ছোট বোন ডা. শারমীন শাকা টুকটুকি— সবাই চিকিৎসা পেশায় যুক্ত।
সাবরিন শাকা মীমের মতো একজন প্রতিভাবান ও সংগ্রামী নারীর জন্য রইল অশেষ শুভকামনা। তাঁর জীবন হোক সাফল্য, সুস্থতা ও শান্তিতে পরিপূর্ণ।
শুভ জন্মদিন মীম!
তোমার মুগ্ধতা ছড়াক আরও বহু বছর ধরে — অভিনয় থেকে সংবাদ, তুমি যেখানেই থাকো, আলোকিত হও বারবার।