ঋতাভরী যখন হাইস্কুলে ছিলেন তখন তার মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। দশম বোর্ড পরীক্ষার পর তিনি স্টার জলসার জনপ্রিয় ভারতীয় বাংলা ধারাবাহিক ওগো বধু সুন্দরীর মূল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম উপস্থিত হন। উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও তিনি ব্যাক টু ব্যাক প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। তিনি ইতিহাস ও বাংলা ভাষায় দ্বাদশ বোর্ড পরীক্ষায় সর্বভারতীয় তালিকায় শীর্ষে স্থান পান। হাই স্কুল শেষ করার পরে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে ভর্তি হন। তার মায়ের দিদা ছিলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আচার্য্য জমিদার পরিবারের বংশধর।
তিনি জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি টেলিভিশন ধারাবাহিক "ওগো বধূ সুন্দরী"-এর নায়িকা হিসাবে টেলিভিশনে তার প্রথম আত্মপ্রকাশ। ২০১১ সালে, তিনি 'তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা' তে তার বড় পর্দার যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়নি।
ঋতাভরী তার মা চলচ্চিত্র নির্মাতা শতরূপা সান্যালএর সাথে "এসসিইউডি" নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানি চালান, তাদের নির্মমিত চলচ্চিত্র 'নেকেড' এবং 'অনু' জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে।
২০১৮ সালে, মুক্তি পাওয়া প্রসিত রায়ের ‘পরী’ ছবিতে তিনি কাজ করছেন। এই ছবিতে তার সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, পরমব্রত ও রজত কাপুর ছিলেন। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।
বিজ্ঞাপনের জগতে তার নাম হয়েছে এই মুহূর্ততে তিনি চন্দ্রানী পার্লস, রূপায়ণ জুয়েলার্স, শাহনাজ, রাজলক্ষ্মী জুয়েলার্স, এএমআরআই ডেন্টাল ক্লিনিক, সানরাইজ মসলা, সিদ্ধা, পিসিও ক্লাব, পরিধান, অরুম জুয়েলার্স, এনকর ইলেকট্রনিক্স, রিমি নায়েক ইন্ডিয়া, রেশম শিল্পী, মানিনী, অনন্যা ইত্যাদিতে কাজ করছেন।
তিনি সম্প্রতি কাজ করেছেন শ্রীমতী ভয়ঙ্করী, শেষ থেকে শুরু ও ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি চলচ্চিত্রে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া তাঁকে ২০১৮ সালে পূর্ব ভারতের সর্বাধিক আকর্ষণীয় নারী (Most Desirable Woman) হিসেবে মনোনীত করেছিল এবং একইসাথে তিনি গোটা দেশের শীর্ষ ৫০ আকর্ষণীয় নারীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন—যেখানে তিনি অনেক বলিউড তারকাকে পেছনে ফেলেন।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের সর্বকনিষ্ঠ প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত।
তাঁর সামাজিক মাধ্যমে ৬ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী রয়েছে।
তিনি লেখালেখিতেও হাতেখড়ি দেন “Naked” নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে, যেখানে কল্কি কোচলিন মুখ্য ভূমিকায় এবং ছবিটি তাঁর নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মিত।
তাঁর পরিচালনায় রয়েছে একটি সমাজকল্যাণমূলক এনজিও—SCUD Society for Social Communication।
এই সংগঠনটি স্বাস্থ্য শিবির, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের ক্ষমতায়ন ও প্রশিক্ষণ, এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
ঋতাভরী ও তাঁর মা প্রতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করেন, যা নিঃসন্দেহে তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
এই বিশেষ দিনে তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রার্থনা।
ঋতাভরী মানেই সাহস, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সৌন্দর্যের শক্তিশালী এক সত্তা।
