একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার
সারা বিশ্বের বিস্ময়! তুমি আমার অহংকার.....'
বিমুগ্ধ এই কথাগুলো যার সুরে অনুরণিত হয়েছিল সারা বাংলায় তিনি একাধারে গায়ক, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক কিংবদন্তি শিল্পী অজিত রায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার গানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ প্রেরণা পেয়েছিলেন, সেই প্রিয় মানুষটির জন্ম দিবসে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
অজিত রায় ২৯ জুন জুন ১৯৩৮ সালে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সোনাপুর কুঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন অজিত রায়। কৈশোরেই তবলা বাজানো শিক্ষা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি, তাঁকে গানে হাতে খড়ি দিয়েছেন তার মা কণিকা রায়।
অজিত রায়ের বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, মা কণিকা রায় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও স্কুল শিক্ষয়িত্রী৷ খুব ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছে গানে তালিম নেন তিনি।
মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ষাটের দশকে অজিত রায় চলে আসেন ঢাকায়। '৬৩ সাল থেকে ঢাকা রেডিওতে গান গাইতে শুরু করেন। বেশির ভাগই রবীন্দ্রসংগীত।
ষাটের দশকের শেষ পর্বের উত্তাল সময়ে নানা সাংস্কৃতিক সমাবেশে গণসংগীত পরিবেশন করে অজিত রায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কলকাতায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন অজিত রায়। তিনি ছিলেন এই বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান সুরকার, শিল্পী এবং অন্যতম সংগঠক। এ সময় তাঁর সুরারোপিত একাধিক গান বাংলাদেশের অবরুদ্ধ মানুষদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছে উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা।
তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’, ‘অপমানে তুমি সেদিন’, ‘কথা দাও কথাগুলো’, ‘আমি যুগে যুগে আসি’, ‘এদেশ বিপন্ন’, ‘হে বঙ্গ ভান্ডারে তব’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে আজ’, ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’।
২০০০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন অজিত রায়। এছাড়াও, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।
সঙ্গীতশিল্পী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অজিত রায় বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুস সংক্রমণ ব্যাধিতে ভুগে ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
