আজ, ২ জুলাই — জন্মদিনের শুভক্ষণে গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-কে।
জন্ম ১৯৪৪ সালে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈম্বরীপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই এক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক শিল্পভুবনের উত্তরাধিকারী। তাঁর বাবা কালীকানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন দক্ষ আবৃত্তিকার এবং তাঁদের পারিবারিক থিয়েটার দল নিয়মিত যাত্রা ও নাটক মঞ্চস্থ করত, যেখানে পরিবারের সদস্যরাই অংশগ্রহণ করতেন। খুব ছোটবেলায় এক ‘পালা’য় বিবেকের সহচর বালকের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর মঞ্চ-জীবনের সূচনা।
শুধু অভিনয়ই নয়—তিনি গান, আবৃত্তি এবং তবলাবাদনে সমান পারদর্শী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি সংস্কৃতির বহুমাত্রিক জগতে নিজেকে নিবেদন করেন।
বাংলাদেশ ও ভারত — দুই বাংলার বহু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
ঘেটুপুত্র কমলা, রানওয়ে, আমার আছে জল, মেড ইন বাংলাদেশ, জয়যাত্রা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, কিত্তনখোলা, মাটির ময়না, সুতপার ঠিকানা, শিখন্ডী কথা, সত্তা ইত্যাদি।
তার অভিনয় যেমন আবেগের গভীরতা ছুঁয়েছে, তেমনি তিনি একজন গুণী আবৃত্তিকার হিসেবেও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমাদের শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা—যাঁর সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
শুভ হোক আপনার জন্মদিন, প্রিয় শিল্পী। সুস্থ থাকুন, দীর্ঘজীবী হোন।