সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা–গাছা গ্রামের প্রায় আধা কিলোমিটারের কিছু বেশি দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ, অসুস্থ রোগীসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষাকালে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক গৌরাঙ্গ মন্ডল বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
আরেক বাসিন্দা মোছা. ফাতেমা খাতুন বলেন, “বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদায় ভরে যায়। ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হওয়াও খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাব্বির হোসেন বলেন, “দুর্বাডাঙ্গা–গাছা সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি এবং সড়কটি দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হোক। তাদের বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে দীর্ঘ দুই দশকের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সাতক্ষীরা তালা প্রতিনিধি :
