খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘গোবরা কমিউনিটি হার্বোরিং (ঘাট)’। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় গোবরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে ফিতা কেটে ঘাটটির উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের অর্থায়নে এবং ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ আধুনিক ও টেকসই এই ঘাটটি নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘাটের কারণে স্থানীয় মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে হতো। এ সমস্যা সমাধানে কয়রা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্রেন্ডশিপ দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে।
জানা যায়, মোট ২৭৬ ফুট দীর্ঘ ঘাটের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ ১৫৬ ফুট কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে এবং অবশিষ্ট ১২০ ফুটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসন। যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই ঘাট এখন দুই উপজেলার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘাটটির উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন কয়রা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাকী। তিনি বলেন,
"গোবরা ঘাট এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। ফ্রেন্ডশিপ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই ঘাট স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করেছে। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সাহা এবং সঞ্চালনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন এই ঘাট চালু হওয়ায় এখন আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হবে না। যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যোগাযোগ, জীবিকার উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির একটি সফল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ফ্রেন্ডশিপের এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
