আজকের দিনে জন্ম নিয়েছিলেন আমাদের প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, গুণী সংগীতশিক্ষিকা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অণিমা রায়। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ যেন নতুন করে ধরা দেন—স্নিগ্ধতায়, গম্ভীরতায়, গভীর ভাবনায়। জন্মদিনে রইলো হৃদয়ের গভীর থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
অণিমা রায়ের জন্ম ঢাকার কেরানী গঞ্জে, ১৯৭৯ সালের ১২ জুলাই। অণিমা রায়ের বাবা ছিলেন কমল রায়। তিনি ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রয়াত হন। ছোটবেলায় কাকা বিমল রায়ে উৎসাহেই সংগীতে তার পথ চলা শুরু।
শৈশবেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। এরপর একে একে তিনি তালিম নেন দেবাশীষ চক্রবর্তী, সাধন চন্দ্র বর্মন, এবং ললিতকলা একাডেমিতে। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ওয়াহিদুল হক, সানজিদা খাতুন, মিতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, নিলুফার ইয়াসমিন এবং মৃদুল কান্তি চক্রবর্তীর মতো দেশবরেণ্য গুরুজনদের কাছে।
তিনি ছায়ানট থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের উপর কোর্স সম্পন্ন করেন। উচ্চতর শিক্ষায়ও থেমে থাকেননি—এমফিল করেছেন রবীন্দ্র গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য ও নাটকের গান নিয়ে। বর্তমানে পিএইচডি করছেন 'পঞ্চগীতি কবির গানে স্বদেশচেতনা' বিষয় নিয়ে, গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং লীনা তাপসী খান।
পেশাগত জীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও এই বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বিভাগটি পেয়েছে নতুন দিকনির্দেশনা ও মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ।
সংগীতশিল্পী হিসেবে অণিমা রায় ছয়টিরও বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কোথা যাও, আমি চিত্রাঙ্গদা, ইচ্ছামতি, রবির আলো (যেখানে ভারতীয় শিল্পী প্রত্যুষ ব্যানার্জিও অংশ নিয়েছেন), তোমার বিরহে, প্রাণের মাঝে আয়, মাতৃভূমি, তিন কবির গান বিবর্তন, কবিতা ও গানের অ্যালবাম 'প্রতীক্ষা' (কলকাতার রতন মিত্রের সঙ্গে)
রবীন্দ্রসঙ্গীতই তাঁর মূল ক্ষেত্র হলেও, সংগীতের নানা শাখায়ই তাঁর দক্ষ বিচরণ রয়েছে। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে তিনি গেয়েছেন “মেঘ বলেছে যাব যাব”—যা রেকর্ড হয়েছে তাঁর স্বামী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীত পরিচালক তানভীর তারেক-এর স্টুডিও 'কোলাহল'-এ। যদিও তাঁরা দু’জনেই সংগীতশিল্পী, এই গানই ছিল তাঁদের প্রথম একসঙ্গে কাজ।
এই দম্পতির এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
আজকের এই দিনে তাঁকে জানাই অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং অশেষ শুভকামনা।
শুভ জন্মদিন, অণিমা রায়।
আপনার কণ্ঠে কবিগুরু দীর্ঘজীবী হোন—নতুন প্রজন্মের অনুভবে, বাংলার সাংস্কৃতিক প্রাণপ্রবাহে।