বাংলাদেশের প্রখ্যাত নজরুলসঙ্গীত শিল্পী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও উদ্যোক্তা খায়রুল আনাম শাকিল-এর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের "নতুন কুঁড়ি" প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন। পরবর্তীকালে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-এ ড. সনজীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, শেখ লুতফর রহমান, সোহরাব হোসেন এবং নারায়ণ চন্দ্র বসাকের মতো কিংবদন্তি শিক্ষকের কাছে সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ১৯৭৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। পেশাগত জীবনে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর মূল পরিচয় হয়ে উঠেছে নজরুলসঙ্গীতের নিবেদিতপ্রাণ সাধক হিসেবে।
তাঁর পিতা মোহাম্মদ আবুল খায়ের ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ফরিদপুর জেলার (বর্তমান গোপালগঞ্জ-১) আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। মা নিলুফার খায়ের ছিলেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমির রবীন্দ্রসঙ্গীতের ছাত্রী এবং ছায়ানটের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশই তাঁর শিল্পীজীবনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে।
নজরুলসঙ্গীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান অসামান্য। ২০১৩ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত তাঁর সপ্তম নজরুলসঙ্গীতের অ্যালবাম ‘বেনুকা’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। এতে কাব্যগীতি, রাগাশ্রয়ী ও গজলধর্মী মোট ১২টি গান স্থান পায়।
শুধু নজরুলসঙ্গীতেই নয়, ২০১৭ সালে স্ত্রী মাসুদা আনাম কল্পনা-র সঙ্গে যৌথভাবে তিনি প্রকাশ করেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’। দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায় ও অম্লান দত্তের সঙ্গীত পরিচালনায় ১৪টি গানের এই অ্যালবাম প্রকাশ করে লেজার ভিশন।
সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছায়ানটের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ নজরুল সঙ্গীত সংস্থা-র সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৭ সালে তিনি সঙ্গীতশিল্পী মাসুদা আনাম কল্পনা-কে বিয়ে করেন। তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য ও যৌথ সাংস্কৃতিক পথচলা বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।
আজ তাঁর জন্মদিনে এই গুণী শিল্পীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃষ্টিশীল জীবনের ধারাবাহিকতা কামনা করছি। শুভ জন্মদিন, খায়রুল আনাম শাকিল।
আপনার সুর, সাধনা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মকে আরও দীর্ঘদিন