পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রতিবেশীর দুই অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বোদা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী দুই শিশু পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের আমতলা কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে নিজ ঘরে ধর্ষণ
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে বাড়িতে রেখে তার পরিবারের সদস্যরা কাজে যান। এই সুযোগে নিজের নাতনির সমবয়সী ওই শিশুটিকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে আমিনুল। শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে কান্নার কারণ এবং এর আগেও একাধিকবার আমিনুল তাকে একইভাবে নির্যাতন করেছে বলে বিস্তারিত জানায়।
সালিশে অপরাধ স্বীকার ও পলায়ন:
এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিবেশীর ৬ বছর বয়সী আরেক শিশুও আমিনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক ডাকা হলে সেখানে আমিনুল সবার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। তবে এর পরপরই সে কৌশলে সালিশ থেকে পালিয়ে যায়,
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় ৫ বছরের শিশুটির গোপনাঙ্গে সংক্রমণ (ইনফেকশন) দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাকে এবং ৬ বছর বয়সী অপর শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হলে রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আমিনুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার অবুঝ শিশুটিকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে আমিনুল। শুধু আমার মেয়ে নয়, প্রতিবেশীর আরেক শিশুকেও সে ছাড়েনি। নিজের নাতনির বয়সী শিশুদের সাথে যে এই অমানুষিক কাজ করতে পারে, আমি তার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদ হাসান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে দুটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আলামত হিসেবে তাদের সোয়াব (Swab) টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে; মেডিকেল রিপোর্ট এলে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মো. মাহাবুব আলম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
