যখনই মনে করি খান আতাউর রহমান পরিচালিত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, চোখে ভেসে ওঠে মোহাম্মদী বেগের সেই বিভৎস ও বেদনাবিধুর চেহারা। পেছন থেকে নবাবকে ছুরি মেরে হত্যা করা, সেই মুহূর্তে তাঁর ঠান্ডা অথচ নির্মম হাসি আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে তোলে।
খলচরিত্রে অভিনয় করে যে ক’জন অভিনেতা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, আবদুল মতিন তাঁদের অগ্রভাগে।
মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সর্বত্রই ছিল তাঁর প্রতিভার দীপ্তি।
১৯২১ সালের ১৭ জুলাই পুরান ঢাকার নারিন্দায় জন্ম নেওয়া এই কৃতী শিল্পী ছিলেন আবদুর রহমান ও বিবি সমীরনের একমাত্র সন্তান।
মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেন, এবং তিনিই ছিলেন ঢাকায় নাট্যচর্চায় যুক্ত প্রথম মুসলিম অভিনেতা।
১৯৪৮ সালে ঢাকা বেতারে যোগ দিয়ে ঘোষক, নাট্য প্রযোজক, নাট্যকার ও সংগীত রচয়িতা হিসেবে কাজ করেছেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বেতার অফিসে কর্মরত অবস্থায় প্রথম প্রতিবাদ জানান এবং হরতালের ডাক দেন।
১৯৫৬ সালে আমেরিকার এমজিএম প্রযোজিত ঢাকায় নির্মিত প্রথম ডকুমেন্টারিতেও অংশগ্রহণ করেন।
টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই যুক্ত ছিলেন নাট্যচর্চায়। তাঁর উপস্থিতি ছিল প্রতিটি মাধ্যমেই সক্রিয় ও প্রভাবশালী।
জীবদ্দশায় তিনি প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ:
তিতাস একটি নদীর নাম, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, সুতরাং, কাজল, সাতরং, আনোয়ারা, সংসার, মধুমিলন, আদর্শ ছাপাখানা, দীপ নেভে নাই, ঈশা খাঁ, নীল আকাশের নীচে, প্রভৃতি।
আবদুল মতিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আয়শা খাতুনের সাথে।
তাঁদের ১৫ জন সন্তান ছিল, যাঁদের মধ্যে আবদুর রাতিন ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা এবং অনজন রহমান একজন পরিচিত সাংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক।
এই অসাধারণ শিল্পী ১৯৮৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার নারিন্দার নিজ বাসভবনে পরলোকগমন করেন।
বাংলা অভিনয় অঙ্গনের ইতিহাসে তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজ ১৭ জুলাই, তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে।
অভিনয়শিল্পের প্রবাদপুরুষ আবদুল মতিনকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।