সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

চলচ্চিত্রের এক কিংবদন্তি অভিনেতার কথা। 
সময়টা ১৯৫৮ সাল। 
সে সময় সম্ভ্রান্ত পরিবারের কেউ চলচ্চিত্রে অভিনয করবে এমন ভাবনা ছিল অবান্তর। সিনেমা দেখতে দেখতে এক সময় চলচ্চিত্র অভিনয় করার ভূত চেপে বসে মাথায়। অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে। অভিনয়ের নেশায় কাউকে কিছু না বলেই সিনেমার টানে বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে এলেন ঢাকায়। শাহবাগ হোটেলে চাকরি নিয়ে খুঁজে পেয়ে যান আরেক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যাপ্টেন এহতেশামকে।

তাঁর পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। ছবিটি ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায়। তারপর আর তাঁকে থেমে থাকতে হয়নি। অজপাড়াগাঁয়ের সেই ছেলেটিই পরবর্তীতে হয়ে গেলেন চলচ্চিত্রের সাড়া জাগানো নায়ক। নাম তার রহমান। যাকে তুলনা করা হতো নায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে। আজ গুনী অভিনেতা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

রহমান ১৯৩৭ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রসেয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আবদুর রহমান। রহমানের শৈশব কেটেছে নিজ গ্রামের বাড়িতে। গ্রামের স্কুলে ৫ম শ্রেনী পযর্ন্ত পড়ার পর ১৯৪৮ সালে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করা, মাঠে ফুটবল খেলা নয়তো ক্রিকেট খেলে বিকেল পার করতেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নামাজ পড়ে পড়াশুনায় বসে যেতেন। এই বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন রহমান। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হলেন তিনি। সিট পেলেন কলেজ হোস্টেলে। তখন রাজশাহীতে ছিল ‘কল্পনা’ ও ‘অলোকা’ ছবিঘর। সন্ধ্যা হলে প্রায়ই ছবি দেখার জন্য ছবিঘরে আসতেন। প্রমথেশ বড়ুয়া নয়তো অসিত বরণের ছবি তার খুব ভাল লাগত। বিকেলে বেড়াতে যেতেন পদ্মা নদীর তীরে। মন টিকলো না রাজশাহীতে। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা না দিয়েই চলে এলেন ঢাকায়। জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হলেন। এখান থেকে আই এ পাস করলেন। ১৯৫৮ সালে শাহবাগ হোটেলে চাকরি নেন। ইংরেজি ও হিন্দি ছবি মুক্তি পেলে হলে গিয়ে দেখতেন। তখন থেকেই ফিল্মে অভিনয় করার সখ ভালো করে চেপে বসে মাথায়। রহমানের ভাষায়,শাহবাগ হোটেলে রিসিপশনিস্টের চাকরি করি।

সেখানে আমাকে কয়েকজন বন্ধু ঠাট্রা করে উত্তম উত্তম বলে ক্ষেপাত। একদিন আমার একজন বন্ধু এসে বলল, আমাদের এখানে ছবি তৈরি হবে সেখানে সুযোগ পেতে পারিস। বন্ধুদের কথা মতো গেলাম সেই অফিসে। পরিচালকের নাম ফজলুল হক। ছবির নাম আজান। রমণা পার্কের পশ্চিমে টেনিস গ্রাউন্ডের সাথে ছোট একটা রুমে অফিস। ১৯৫৮ সালে ২১ বছর বয়সে খল চরিত্রে এহতেশাম পরিচালিত এ দেশ তোমার আমার দিয়ে রহমানের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ১৯৬৫ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পায় ‘বাহানা’। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জহির রায়হান ছবিটি নির্মাণ করেন। এই চলচ্চিত্র ব্যাপক জয়প্রিয়তা এনে দেয় নায়ক রহমানকে। তাঁর আগের চলচ্চিত্র ‘মিলন’ ব্যাপক জয়প্রিয় ছিল তৎকালীন দুই পাকিস্তানে।


আরও একটি চলচ্চিত্রের কথা বলতে হয়—রহমান ও শবনম অভিনীত সর্বাধিক জনপ্রিয় ছবি ‘তালাশ’। এটি প্রায় সবক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যায়। এতে সুরকার ছিলেন শবনমের স্বামী রবিন ঘোষ। মেহেদি হাসানের একটি হৃদয়গ্রাহী গান ছাড়াও ঢাকার একটি খুব জনপ্রিয় বাংলা গানের উর্দু রূপান্তর করা হয় এখানে। অভিনয়ের পাশাপাশি রহমান বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম নায়ক, যিনি ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানোর সাহস দেখান। 
১৯৬৭ সালে ‘দরশন’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন তিনি। তাঁর পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র হলো ‘দর্শন’, ‘কঙ্গন’, ‘যাহা বাজে সেহনাই’ ইত্যাদি। আর বাংলা চলচ্চিত্র ‘নিকাহ’।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি পাকিস্তানে উর্দু চলচ্চিত্র ‘চাহাত’, ‘দোরাহা’ ও ‘লগান’-এ অভিনয় করেন। সিনেমার সাদা-কালো যুগের সুপার হিট সিনেমা ‘জোয়ার ভাটা’। শবনম ও রহমান ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম ও বেশি সময়ের শ্রেষ্ঠ জুটি। জনপ্রিয়তায়ও ছিলেন শীর্ষে বাংলা কিংবা উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ণ ‘দেবদাস’ নির্মাণ করেন। সেখানে নায়ক রহমান চুনি লালের চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ১৯৮১ সালে দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘অংশীদার’ চলচ্চিত্রেও তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করেন। রহমান অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র ছিল অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘আমার সংসার’।


মাসুদ চৌধুরীর পরিচালিত ‘প্রীত না জানে রীত’ – ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৯৬৩ সালের জানুয়ারীতে শুটিং করার জন্য রহমান গেলেন সিলেটে। এই ছবিতে শুটিং চলাকালে গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি একটি পা হারান। 
সেদিন সিলেটে জীপগাড়ি চালাচ্ছিলেন আফজাল হোসেন। পাশে মোহসীন নজরুল বসা। রহমানের এক পা ছিল বাইরে। মুরারী চাঁদ কলেজের সামনে আসতেই একটি ট্রাক এসে রহমানের এক পা নিয়ে গেল। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৬ মাস, লণ্ডনে ৪ মাস চিকিৎসার পর ও পা ফিরে পেলেন না।


ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫৯ সালে ইডেন গার্লস কলেজের ছাত্রী দিনাজপুরের মেয়ে কুমকুম এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। রহমান ছিলেন ৫ কন্যার জনক। 
২০০৫ সালের ১৮ জুলাই ঢাকায় এই কিংবদন্তি অভিনেতার জীবনাবসান ঘটে।