ভূপিন্দর সিং ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় গজল শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালক। তিনি গজল গায়ক হিসাবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এবং বলিউডে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৪০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্ম নিয়েছিলেন এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী—ভূপিন্দর সিং। সংগীতের সঙ্গে তার পরিচয় পিতার হাত ধরেই, যদিও তার বাবা নাথা সিংজি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও নিয়মমাফিক সংগীতগুরু। কঠোর অনুশাসন আর আত্মনিবেদনের ভেতর দিয়েই ভূপিন্দরের সংগীতজীবনের সূচনা হয়।
অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে সতীশ ভাটিয়ার অধীনে নৈমিত্তিক শিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দূরদর্শনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেন এবং ধীরে ধীরে বলিউড ও গজলের জগতে নিজের একান্ত জায়গা গড়ে তোলেন।
পাঁচ দশকের কেরিয়ারে গানের ইন্ডাস্ট্রির অসংখ্য মহারথীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। মহম্মদ রফি, আরডি বর্মণ, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে এবং বাপ্পি লাহিড়ির মতো মহারথীর সঙ্গে তাঁর একাধিক কাজ অবিস্মণীয় হয়ে আছে।
দীর্ঘ কেরিয়ারে 'থোড়ি সি জামিন থোড়া আসমান' (সিতারা, লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গেয়েছিলেন), 'দিল ডুন্ডা হ্যা' (মৌসম), 'নাম গুম জায়েগা'-র (কিনারা) মতো গান গেয়েছিলেন। গায়িকা স্ত্রী'র সঙ্গেও ভূপিন্দর সিংয়ের একাধিক বিখ্যাত গান ছিল। 'দো দিওয়ানে শহর মে', 'নাম গুম জায়েগা', 'এক আকেলা ইস শহর মে', 'কভি কিসি কো মুকম্মল'-র মতো সুপারহিট গান গেয়েছেন।
আশির দশকে, ভূপিন্দর বাংলাদেশী গায়িকা মিতালি মুখার্জিকে বিয়ে করেন। তারা একসাথে দূরদর্শন এবং কনসার্টে গজল পরিবেশন করেন। তাদের নিহাল সিং নামে একটি ছেলে আছে, যে একজন সঙ্গীতজ্ঞও।
ভূপিন্দর সিং ১৮ জুলাই ২০২২ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২। করোনাভাইরাস পরবর্তী জটিলতা ভুগছিলেন গজল শিল্পী। সম্ভবত কোলন ক্যানসারেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তাঁর প্রয়াণে সংগীতজগতে নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূপিন্দর সিং শুধু গান গাইতেন না – তিনি প্রতিটি গানে জীবনের গল্প বলতেন। সেই গল্প আজও আমাদের হৃদয়ে বাজে।