দূরদর্শনে বাঙালি মেয়েটির গান শুনে তাকে পছন্দ করেছিলেন বম্বের নামী গায়ক। সুকন্ঠী মেয়েটিও সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মুখার্জী থেকে হয়ে গেলেন সিং। মেয়েটির কাছে সেই পুরুষোত্তম শুধু স্বামী নয়, তাঁর গুরু। ঠিক যেন...
'যখন তোমার গানের সরগম
আমার কণ্ঠে খেলে যায়,
মনে হয় তুমি ধ্বনি আমি প্রতিধ্বনি।"
তাঁরা হলেন ভারতীয় গজল সঙ্গীতের জনপ্রিয় জুটি ও দম্পতি ভূপিন্দর সিং ও মিতালি মুখার্জী সিং। বাংলা ও হিন্দি ছবির প্লে ব্যাকেও তাঁদের বেশ কয়েকটি গান তুমুল জনপ্রিয়।
মিতালী মুখার্জীর জন্মদিনে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও হৃদয়ছোঁয়া শুভেচ্ছা।
মিতালী মুখার্জী
মুখার্জী তার বাবা অমূল্য কুমার মুখার্জী ও মা কল্যাণী মুখোপাধ্যায়ের পরিবারে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পিতার বাড়ি বরিশাল জেলায় এবং মায়ের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় মুখার্জী পিটার মিঠুন দে’র তত্ত্বাবধানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেন।
মিতালী মুখার্জির শিক্ষা জীবনের শুরু ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে ভারতের গুজরাটের মহারাজা সায়াজী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ে অধ্যয়ন করতে যান এবং সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণের পাশাপাশি গোল্ড মেডেলও লাভ করেন মিতালী মুখার্জি।
১৯৮২ সালে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র "দুই পয়সার আলতা"-তে গাওয়া “এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই” গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপরের গল্প এক নিরবচ্ছিন্ন সংগীতযাত্রা।
তিনি গেয়েছেন গুজরাটি, পাঞ্জাবি, হিন্দি, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষায়।
তাঁর প্রথম অ্যালবাম "সাহিল" এবং গুলজারের সঙ্গে করা “চাঁদ পারোসা হ্যায়” অ্যালবাম তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি।
বাংলাদেশের শ্রোতাদের জন্যও মিতালী মুখার্জী এক প্রিয় নাম।
আলাউদ্দীন আলীর সুরে তাঁর কণ্ঠে immortal হয়ে আছে—
"ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়",
"এ জীবন তোমাকে দিলাম বন্ধু",
"কেন আশা বেঁধে রাখি",
"যেটুকু সময় তুমি থাকো পাশে",
দুঃখ ছাড়া হয় না মানুষ" সহ আরও অনেক কালজয়ী গান।
তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভূপিন্দর সিং-এর সঙ্গে ১৯৮৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন ভারতের মুম্বাইয়ে। ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ভূপিন্দর সিং-এর মৃত্যুতে মিতালীর জীবনের সংগীত-সহচরতা যেন কিছুটা স্তব্ধ হয়ে যায়—তবু তাঁর কণ্ঠে আজও বাজে সেই স্মৃতিমধুর সুর।