আফজাল হোসেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রশিল্পী এবং বিজ্ঞাপন নির্মাতা। শিল্পকলার অভিনয় শাখায় তার অবদানের জন্য তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একুশে পদক লাভ করেন।
শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা ও অভিনন্দন আফজাল হোসেন।
আফজাল হোসেন ১৯৫৪ সালের ১৯শে জুলাই তৎকালীন পূর্ববাংলার সাতক্ষীরার পারুলিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আলি আশরাফ হোসেন ছিলেন একজন মেডিকেল অফিসার। তার ভাইয়ের নাম আলফাজ হোসেন এবং বোন রুমানা আফরোজ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট কলেজে পড়েছিলেন।
চারুকলায় পড়ার সময় ঢাকা থিয়েটারের মাধ্যমে মঞ্চে কাজ শুরু করেন। সত্তর দশকের শেষ দিকে টেলিভিশন জগতে পা রেখে অভিনয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। আশির দশকে আফজাল হোসেন হয়ে উঠেন টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় এক নাম। এ ছাড়া চলচ্চিত্রেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন গুণী এই অভিনেতা।
আফজাল হোসেন সত্তর দশকের মাঝামাঝি থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত হন এবং বিটিভির প্রযোজনায় নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি বক্স-অফিস হিট করা "দুই জীবন", "নতুন বউ" এবং "পালাবি কোথায়" সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেন। বাংলাদেশের মডেলিং জগৎ কে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে তার অবদান অনস্বীকার্য। ২০১১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শুধু একটাই পা'।এছাড়া তিনি ছবিও আঁকেন। বর্তমানে তিনি নাট্য পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন।
১৯৮০-র দশকে বাংলাদেশের নাটকে
সুবর্ণা-আফজাল জুটি বিশেষ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁদের অভিনিত দর্শকপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে “কুল নাই কিনার নাই”, “পারলে না রুমালি”, “জোহরা”, “ওহ দেবদুত”, “রক্তের আঙ্গুরলতা”, ইত্যাদি। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে মঞ্চেও তাঁরা জুটি হিসেবে দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হন। তাঁদেরকে ছোট পর্দার চিরসবুজ জুটি বলা হয়।
সাহিত্যে রয়েছে তাঁর পদচারণা—২০১১ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘শুধু একটাই পা’। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ চিত্রশিল্পীও।
আফজাল হোসেন তানজিন হালিম মনাকে বিয়ে করেন। তাদের দুইজন পুত্র সন্তান রয়েছে।
আজ এই গুণী মানুষের জন্মদিনে জানাই হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, শুভকামনা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, আপনার শিল্পসৃষ্টিতে আলোকিত হোক আমাদের আগামী প্রজন্ম। আপনিই আমাদের চিরসবুজ অনুপ্রেরণা।