পাবনা-কাশীনাথপুর মহাসড়কের আহম্মদপুর ইউনিয়নের ২৪ মাইল নামক এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকাল আনুমানিক দশটার দিকে পাবনা-বেড়া রুটে চলাচলকারী লোকাল বাস 'ভলকা' এবং ঢাকা-পাবনাগামী দূরপাল্লার পরিবহন 'সি-লাইন'-এর মধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় উভয় বাসের চালকসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়াগামী লোকাল বাস ভলকাটি মহাসড়কের নিজস্ব লেন ধরে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির সি-লাইন বাসটি একটি ভ্যান ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। প্রত্যক্ষদর্শী আমিন রাজ জানান, "পাবনার সি-লাইন বাস মানেই এখন এক আতঙ্কের নাম। তারা মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়।"
দুর্ঘটনায় আহত ও লোকাল বাস ভলকার সহকারী (হেল্পার) লালচাঁদ খান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, "আমি গাড়ির সহকারী হিসেবে সামনেই ছিলাম। সামনের সি-লাইন বাসটি যেখানে ওভারটেক করার কোনো সুযোগ নেই, সেখানেও একটি ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। চালক ব্রেক চাপার কোনো চেষ্টাই করেনি। আমাদের ওস্তাদ (চালক) পরিস্থিতি দেখে গাড়িটি রাস্তার একেবারে বামে চেপে নিয়ে যান। কিন্তু তারপরেও সি-লাইন বাসটি এসে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে আমার ওস্তাদ ও আমি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছি।"
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ও সাধারণ যাত্রীরা মহাসড়কে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসিবুর রহমান নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়কে নিরাপত্তার স্বার্থে সি-লাইন বাস কোম্পানিকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত। কয়েক দিন পর পরই এই অপারেটরের বাসগুলো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।" অন্যদিকে,
আলফাজ শেখ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা মহাসড়কের সংকীর্ণতাকে দায়ী করে বলেন, "এই রুটে প্রতিনিয়ত গাড়ির চাপ বাড়ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এই মহাসড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা জরুরি।"
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এস এন জামান হাশেমী সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি
