যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোল স্পেনকে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়। এর ফলে নিজেদের বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিকে মাঠের মধ্যেই আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারাদেসের বিরুদ্ধে। এই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন নাহুয়েল মলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়্যালাও। হাতাহাতির এক পর্যায়ে পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং পরবর্তীতে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে মনে হয়।
যদিও পরবর্তীতে জানা যায়, ফিফার রেকর্ড থেকে সেই লাল কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং পারেদেসের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তার সঙ্গে গাভির হাতাহাতির ছবি ভাইরাল হলেও গাভি জানান, এসব মাঠে হয়েই থাকে, তাতে পারেদেসের বড় শাস্তি না হওয়াই শ্রেয়। তবে তাতে মাঠের এই সহিংস আচরণের কারণে ব্যাপক সমালোচনা থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তবে দলের এমন আচরণের মধ্যেও বিপরীত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশংসায় ভাসছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার প্রায় সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্য পোডিয়ামের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পালমেইরাসের এই ফরোয়ার্ড দলের বাকিদের অনুসরণ না করে স্পেনের বিজয় উদযাপনের দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান প্রদর্শন করেন।
ফাইনালে মূল একাদশে বা বদলি হিসেবে মাঠে না নামলেও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হুলিয়ান আলভারেজের জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন লোপেজ। তবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তে তার এই কাজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
