রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

লালপুরে অপারেশনের তিন দিন পর রোগীর মৃত্যু: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

লালপুরে অপারেশনের তিন দিন পর রোগীর মৃত্যু: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

লালপুরে অপারেশনের তিন দিন পর রোগীর মৃত্যু: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

নাটোরের লালপুর উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ওভারিয়ান টিউমারের অপারেশনের তিন দিন পর সুখী খাতুন (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় অবস্থিত মুক্তার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত সুখী খাতুন গোপালপুর গুচ্ছগ্রামের রেলগেট এলাকার বাসিন্দা মুরাদ আলীর বড় মেয়ে। তার দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী মো. জায় আহমেদ উপজেলার মানিঘাট এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মুক্তার জেনারেল হাসপাতালের মালিক মুক্তার হোসেন যথাযথ সনদ ছাড়াই অপারেশন পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে আয়া দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হয়, যা গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে নিহতের পিতা মুরাদ আলী বলেন, “আমার মেয়ে অপারেশন করে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হঠাৎ করেই সে মারা যায়। এখন আমার নাতনিটা এতিম হয়ে গেল।”

অন্যদিকে হাসপাতালের মালিক মুক্তার হোসেন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “রোগীর ওভারিয়ান টিউমারটি বড় আকার ধারণ করেছিল। অপারেশনের সময় জরায়ুসহ তা অপসারণ করতে হয়েছে। রোগীর অবস্থা প্রথমে ভালো ছিল, কিন্তু তিন দিন পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়।”

অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা: মো.আনোয়ার হোসেন জানান, টিউমারটি পেটের মধ্যে ফেটে গিয়েছিলো তা পরিষ্কার করা হয়। তিনি আরও বলেন, “আমরা সন্দেহ করছি এটি ক্যান্সারজনিত হতে পারে, তাই নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মারা যান।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারি জোরদার করা জরুরি, যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আর না ঘটে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে লালপুর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:মোঃ সোহেল রানা।