যিনি ছোটবেলা থেকেই নিজ প্রতিভায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
তারিন জন্মগ্রহণ করেন নোয়াখালীতে, তবে বেড়ে ওঠেন ঢাকায়। বাবা মো. শাহজাহান ছিলেন পিডব্লিউডির ইঞ্জিনিয়ার। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে নাচের তালিম শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে প্রথমবার মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করেন।
১৯৮৫ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় অভিনয়, নাচ ও গল্প বলাতে প্রথম হয়ে সবার নজর কাড়েন। তখন থেকেই তার শিশুশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু।
শিশু চরিত্রে হুমায়ূন আহমেদের এইসব দিন রাত্রি এবং শহীদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক ধারাবাহিকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন।
প্রথমবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তৌকির আহমেদের বিপরীতে ‘কাঁঠাল বুড়ি’ নাটকে, যা ছিল এটিএন বাংলায় প্রচারিত প্রথম নাটক।
তারিন অভিনয় করেছেন বহু জনপ্রিয় নাটকে —
এইসব দিন রাত্রি, সংশপ্তক, ফুলবাগানের সাপ, কথা ছিল অন্যরকম, মায়া, ইউ-টার্ন, রাজকন্যা, সবুজ ভেলভেট, অনুচ্ছেদ ৭১, অগ্নিবলাকা সহ অসংখ্য নাটকে তিনি অভিনয়ের গভীরতা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
ওস্তাদ হাসান ইকরাম উল্লাহ্র কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘আকাশ দেব কাকে’, যেখানে ছিল ১০টি গান, তার মধ্যে ৪টি দ্বৈত — শিল্পী রাঘব চ্যাটার্জী, রূপঙ্কর বাগচী, তপন চৌধুরী ও ইবরার টিপুর সঙ্গে।
নাটকের শিরোনাম গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন, যেমন ‘স্বপ্নগুলো জোনাক পোকার মতো’।
তারিন অভিনয় করেছেন কয়েকটি সিনেমায় —
পিরীত রতন পিরীত ধন, কাজলের দিনরাত্রি এবং সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমায়, যা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও প্রশংসিত।
তিনি প্রিয়াংকা ত্রিবেদী, প্রিয়াংকা ব্যানার্জী এবং শাবনূরের জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রে।
সম্মাননা ও পুরস্কার
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১২ সালে।
‘কাজলের দিনরাত্রি’ চলচ্চিত্রটি ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মনোনীত হয়।
তিনি উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কিছু অনুষ্ঠানে।
বর্তমানে তিনি নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘A New Tree Entertainment’-এর সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়াও তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তারিন জাহান শুধুই একজন অভিনেত্রী নন, তিনি অভিনয়, গান, নাচ ও মডেলিং—সব ক্ষেত্রেই রেখেছেন অসাধারণ স্বাক্ষর।
জন্মদিনে তারিন জাহানের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ সৃজনশীল জীবনের শুভকামনা। বাংলার সংস্কৃতি হোক তাঁর সুরে, সংলাপে ও অভিনয়ে আরও সমৃদ্ধ।