তিনি শুধু একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকই নন, একই সঙ্গে সফল প্রযোজক ও দক্ষ অভিনেতাও বটে।
তাঁর জন্ম ১৯৫০ সালের ২৬ জুলাই, ঢাকায়। তবে পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার ফতেহাবাদে। শিক্ষাজীবনে তিনি আই.এস.সি. পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
চলচ্চিত্রজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ‘দর্পচূর্ণ’ ছবিতে সহকারী হিসেবে। এরপর ‘কি যে করি’ (১৯৭৬) ও কালজয়ী ছবি ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ (১৯৭৯)-তে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি ‘নাদিরা’ মুক্তি পায় ১৯৮৫ সালে।
‘রাজিয়া সুলতানা’ (১৯৮৪), ‘প্রেমযুদ্ধ’ (১৯৯৪) সহ বহু সিনেমায় ছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘সুরুজ মিয়া’ (১৯৮৪), ‘দহন’ (১৯৮৫), ও ‘মরণের পরে’ (১৯৯০)-র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
টেলিভিশনের পর্দায়ও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। বিশেষ করে বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি”-তে নানান চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে।
১৯৮৪ সালে 'সুরুজ মিয়া' চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাচসাস পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৬ সালের আগস্টে তিনি কিছুদিনের জন্য নিখোঁজ ছিলেন, যার কারণে তাঁর স্ত্রী রজিয়া হাসান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে তিনি সুস্থভাবে নিজ গৃহে ফিরে আসেন।
ষাটের দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি ফখরুল হাসান বৈরাগী বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে তাঁর কর্মনিষ্ঠা, প্রতিভা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যে অবদান রেখে চলেছেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য।
তাঁর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দীর্ঘজীবী হোন, সুস্থ থাকুন এবং আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলুন এই শুভকামনাই রইলো।