দিন দিন মানুষ বিশ্বাস হারাচ্ছে—এমন কথাই শোনা যায় প্রায়শই।
তবে 'বিশ্বাস' এখনো টিকে আছে—যেখানে তিনি আছেন, অরুণা বিশ্বাস!
নটরাজ অমলেন্দু বিশ্বাস ও সংস্কৃতিসেবী জ্যোৎস্না বিশ্বাসের কন্যা অরুণা বিশ্বাস বেড়ে উঠেছেন এক শিল্পসমৃদ্ধ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই মঞ্চ, সংগীত ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে গড়ে উঠা এই শিল্পীর কর্মজীবন শুরু মঞ্চনাটকের মাধ্যমে।
১৯৮৪ সালে নরেশ ভূঁইয়ার পরিচালনায় ‘এখানে জীবন’ নাটকে আফজাল হোসেনের বিপরীতে অভিনয় করে ছোট পর্দায় অভিষেক।
এরপর মঞ্চে কামাল উদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় ‘তিন পয়সার পালা’ নাটকের মাধ্যমে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেন।
১৯৮৬ সালে নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রায় ১০০-র অধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন বাপ্পারাজ, ইলিয়াস কাঞ্চন, ওমর সানি, আলী রাজ, ইমরান, মান্নার মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের।
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস থেকে এসএসসি, বদরুন্নেসা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কানাডার অক্সফোর্ড কলেজ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস টেকনোলজির উপর ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি গান, নাচ ও প্রযোজনাতেও সমান পারদর্শী। নাট্যদল 'বহুবচন'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিয়মিত।
তিনি নিজে নাটক ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও হাত রেখেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত তাঁর পরিচালিত খণ্ডচলচ্চিত্র ‘ঠিকানা বত্রিশ’ সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
শিল্পকলা পদক ২০২২
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সম্মানিত সদস্য মনোনীত
সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমা ‘অসম্ভব’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্যক্তিজীবনে তাঁর একমাত্র পুত্র শুদ্ধ, বর্তমানে কানাডায় উচ্চ পদে কর্মরত।
চল্লিশ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তিনি যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন শক্তিমান অভিনেত্রী হিসেবে, তেমনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি, নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতকে।
আজকের এই বিশেষ দিনে
নন্দিত অভিনয়শিল্পী অরুণা বিশ্বাস-এর প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
শুভ জন্মদিন সুপ্রিয় অরুণা বিশ্বাস। আপনার অভিনয় যাত্রা আরো দীপ্ত হোক।