বাংলাদেশের অভিনয়াঙ্গনে বন্ধুত্বের গল্প বলতে গেলে যে কয়েকটি নাম বারবার সামনে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম মোশাররফ করিম, আ খ ম হাসান ও শামীম জামান। তিনজনের পথচলার শুরুটা প্রায় একই সময়ে।
মঞ্চনাটকের দিনগুলোতে একসঙ্গে অভিনয়, আড্ডা আর স্বপ্ন দেখার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে চারজনই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাদের আরও এক বন্ধু চঞ্চল চৌধুরী। জনপ্রিয়তার পাল্লা কারও বেশি, কারও কম হলেও বন্ধুত্বে কখনোই তার ছাপ পড়েনি। একাধিক জনপ্রিয় নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা।
অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই নাটক নির্মাণ করছেন শামীম জামান। তার পরিচালিত অসংখ্য নাটকে দেখা গেছে মোশাররফ করিম ও আ খ ম হাসানকে। তবে চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে নাটক পরিচালনা করার সুযোগ হয়নি তার। সেই স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে শামীম জামানের। আর সেটা তিনি পূরণ করতে চান সিনেমা দিয়ে।
সম্প্রতি গাজীপুরের পুবাইলে তার পরিচালিত পারিবারিক ধারাবাহিক ‘এক পাতিলের সংসার’-এর শুটিং চলাকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্নের কথা জানান তিনি।
কথা প্রসঙ্গে জানালেন তিনি সিনেমা নির্মাণের কথা ভাবছেন। জানতে চাওয়া হয়, কেমন ধরনের সিনেমা নির্মাণ করতে চান তিনি? হেসে শামীম জামান বলেন, ‘আমি একটা ছবি বানাইতে চাই। দুই রকম চিন্তা ছিলো। একবার ভাবলাম কমেডি ছবি বানাব। পরে মনে হলো, না, অন্য ধরনের একটা ছবি বানাই। সেই গল্পও রেডি করেছিলাম। প্রডিউসারও ঠিক ছিল, সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু কোনো কারণে আর হয়ে ওঠেনি।’
তবে গল্পের ধরন যাই হোক, একটি বিষয়ে তিনি একেবারেই নিশ্চিত সেই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনি দেখতে চান দীর্ঘদিনের বন্ধু মোশাররফ করিমকে।
‘আমি আসলে মোশাররফকে নিয়ে ছবি বানাব। আর আমাদের যারা আছে, লাভলু ভাই আছে, হাসান আছে, চঞ্চলও যদি থাকে, তাহলে সবাইকে নিয়েই ছবিটা বানাতে চাই’, বলেন তিনি।
তাহলে কি পুরোনো সেই বন্ধুত্বের দলটিকেই আবার একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে? জবাবে শামীম জামান বলেন, ‘চেষ্টা করব। কিন্তু এখন তো সবাই খুব ব্যস্ত। সবাই নিজ নিজ জায়গায় অনেক বড় হয়েছে। এতজন শিল্পীকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে গেলে বাজেটও বড় একটা বিষয়। সেই বাজেট যদি পাওয়া যায়, তাহলে চারজনকে নিয়েই সিনেমা বানানোর ইচ্ছা আছে। আমার কাছে সেই রকম গল্পও প্রস্তুত আছে।'