অদম্য মনোবল আর শিক্ষার প্রতি গভীর প্রত্যয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচে পরীক্ষার্থী উম্মি। সকালে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন তিনি। উম্মি শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা আজাহার আলীর মেয়ে এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবা নেওয়ার পর পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুপুরে তিনি পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মাসুম কাজী বলেন, উম্মি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সে এবার এই প্রতিষ্ঠান হতেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষার্থী উম্মি বলেন, "অনেক কষ্ট হচ্ছিল, তবুও পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। এক বছরের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়, তাই হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। সবার কাছে আমার ও আমার নবজাতক সন্তানের জন্য দোয়া চাচ্ছি।"
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. শাহীদ শাহাব জানান, ওই দিন সমাজ বিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ
দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর জন্য শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারও প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সমাজসেবিকা সাদিয়া আক্তার মুসকান জানান, মা হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উম্মি যে সাহস, দায়িত্ববোধ ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছেন, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার হিসেবে উৎসাহিত করবে। উম্মির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করছি সে যেন ভালো ফলাফল করতে পারে।
মোঃ আমির হোসেন,
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
