এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬-এর ১০ আগস্ট সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা গেছে নানা রেকর্ড। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির শতকরা হারে শীর্ষস্থান দখল করেছে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই সর্বোচ্চ গ্রেড-পয়েন্ট অর্জন করেছেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯০.১১ শতাংশ। এছাড়া বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৯.১৬ শতাংশ— যা জেলার অন্যতম সেরা।
জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে- হাসিব ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫.৪০ শতাংশ (৮১ জনের মধ্যে ৫৩ জন) এবং তাদের পাসের হার শতভাগ। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ২৯০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে ১৫৬ জনকে জিপিএ-৫ এনে দিয়েছে—হার ৫৩.৭৯%, পাসের হার ৯৭.৯৩%। অপরদিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৬৮ জনের মধ্যে ৮৯ জন জিপিএ-৫ পেয়ে হার ৫২.৯৭% এবং শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে।
শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৫০ জনে ১১৪ জন, ৪৫.৬%), ক্যালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১১৬ জনে ৪৬ জন, ৩৯.৬৫%) এবং স্কুল অব লরিয়েটস (৮৫ জনে ৩০ জন, ৩৫.২৯%) উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাসের হার ৯৮.৭১% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন (৩০.৭৭%)।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে -ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জন জিপিএ-৫ (২১.২১%) ও পাসের হার ৮১.৪৩% অর্জন করেছে। একই উপজেলার ভেড়ামারা সরকারি পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ২০২ জনের ৪১ জন (২০.২৯%) ও পাসের হার ৮৭.১২%। কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১০ জনে ২২ জন (২০%) জিপিএ-৫ পেলেও সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪৫%। কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা বিদ্যালয়** ১৫৫ জনে ৩২ জন (২০.৬৪%) ও পাস ৯০.৯৬%।
মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ৬০ জনের ৯ জন (১৫%) জিপিএ-৫ পেলেও তাদের পাসের হার ৯১.৬৬%— যা তালিকাভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৯ জনে ১৯ জন, ১০.৫%) ও দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৯৮ জনে ১০ জন, ১০.২০%) তুলনামূলক পিছিয়ে থাকলেও পাসের হার যথাক্রমে ৬৪.৮০% ও ৮৪.৬৯%।
শতভাগ পাসের তালিকায় স্থান পেয়েছে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাসিব ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৬ জনে ৪ জন জিপিএ-৫, ২৫%)।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ও শতকরা হার— উভয় সূচকেই কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জেলায় শীর্ষ। তবে জেলা স্কুল ও এডুকেয়ারও বিপুল সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্য যাচাইয়ে শুধু জিপিএ-৫-এর হার নয়, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হার ও বিষয়ভিত্তিক পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের ফলাফল জেলার শিক্ষার মান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মত স্থানীয় শিক্ষাবিদদের।
সবমিলিয়ে কুষ্টিয়ার শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এবার উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সাফল্য আগামী দিনের শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আক্তারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।
