কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মীর রকিবুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্যের অভিযোগে দায়ের করা আদালত অবমাননা মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারক নিশীত রঞ্জন বিশ্বাস। মিস ভায়োলেশন-১২/২০২৪ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের স্থিতাবস্থা ভঙ্গের ঘটনায় ১২ জনকে চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন বিভাগ বণ্টন মামলা নং-২৭৬/২০২০-এর তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১১ মে ২০২২ তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে ওই সম্পত্তিতে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে পূর্বের অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই আদেশ পরবর্তীতেও বহাল ছিল। আবেদনকারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাদীপক্ষ নালিশি জমির গাছপালা কেটে সেখানে নতুন পাকা ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইট, বালি ও রড মজুত করে। পরে ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ সকালে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় আবেদনকারীরা নির্মাণকাজে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নিযুক্ত কমিশনার মো. শাহ্নেওয়াজ জাকী ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, সাক্ষীদের জেরা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আবেদনকারীদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। আবেদনকারীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এস. নাহার রত্না। তাকে সহযোগিতা করেন সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট মো. মাহাতাব উদ্দিন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আঃ গফুর। তবে আদালতে দাখিল করা আপত্তিতে বাদীপক্ষ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি, তারা আদালতের আদেশ অমান্য করেনি এবং নতুন ঘর নির্মাণের অভিযোগও সঠিক নয়। এদিকে বিচারক নিশীত রঞ্জন বিশ্বাসের আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হারও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে। এপ্রিল থেকে জুলাই ২০২৬—এই চার মাসে আদালতে মোট ২২৩টি মামলা দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৬৭টি মামলা। সে হিসাবে ওই সময়ে মামলা নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ১৩৮ শতাংশ।
একই সময়ে আদালতে মোট ৪১৭টি সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলাও রয়েছে। বছরের পর বছর আদালতে বিচারাধীন থাকা এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিভাগ বণ্টন মামলা নং-২৭৬/২০২০ এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্যের ঘটনায় ১২ জনকে চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা। তারা এ রায়কে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতের আদেশ অমান্যের ঘটনায় দেওয়া এ রায়ে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও আনন্দিত। তাদের মতে, আদালতের এ রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ অমান্য করে আইন ও বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে এ রায় একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেবে।
