আজ ১৬ আগস্ট, সেই ‘ধৈর্যশীলা, আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মেজবউ’—কলকাতার প্রণয়ময়ী বাংলা ছবির অন্যতম গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী, অনুরাধা রায়-এর জন্মদিন।
কলকাতার বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি; পিতা: মঞ্জু প্রকাশ বসু ও মাতা: প্রভা বসু। দেবরাজ রায়ের সঙ্গে ১৯৭৬ সালে তাঁর বিয়ে হয়। অভিনয়ের কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না—শ্বশুরবাড়ির “কর-কর” চাপেই তিনি বড় পর্দায় প্রবেশ করেন। যদিও, থিয়েটারে বহু বছর তিনি অভিনয় করে গেছেন।
স্ক্রিনে তাঁর যাত্রা শুরু হয় “Karoti” (১৯৮৮) চলচ্চিত্র দিয়ে এবং 'উৎসব' (২০০০)–এ মেজো বৌ চরিত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা করে, যা ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সৃষ্টি । “Rajeshwari” ধারাবাহিকে রানি রাসমণির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবার মনে জায়গা করে নেন ।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি ও চরিত্রের কিছু নির্বাচন:
চৌধুরী পরিবার (১৯৯৮)–এ মেজবউ হিসেবে; ছবিতে রণজিৎ মল্লিক, প্রসেনজিৎ, ইন্দ্রাণী হালদারদের সঙ্গে দেখা যায় ।
Sangharsha (২০০৭)–এ মা-র চরিত্রে ।
Sindurer Adhikar (১৯৯৮)–আহামরি স্তরের পারিবারিক নাটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ।
থিয়েটার থেকে ধারাবাহিক, বড় পর্দা থেকে ছোট—পেশাজীবনের বহুমাত্রিকতা
উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক যেমন “গানের ওপারে”, “রাজেশ্বরী” (রানি রাসমণি চরিত্র), “চরিত্রহীন”–এ যেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি মায়ের চরিত্রে ধারাবাহিকে বারবার দর্শকের হৃদয়ে দাগ কাটেন ।
ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রিয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন তিনি। মায়ের চরিত্রে অভিনয় হলেও আধুনিক, শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা থাকলেও, টলিউড প্রায়ই তাকে সাধারণ ধরনের ভূমিকাতেই আবদ্ধ রেখেছিল—যা আদৌ প্রশংসার প্রতিফলন নয়।
দেবরাজ রায়ের ব্রেন স্ট্রোকের পর, তিনি অভিনয় জীবনের স্রোত বজায় রেখে সংসারে সমান তালে নিজেকে রূপনে সফল হয়েছেন—অসাধারণ দৃঢ়তা ও জীবনীশক্তিতে ।
আজকের এই বিশেষ দিনে রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা—আপনার সেই অনন্য উজ্জ্বলতা সবসময় বাড়ুক।