শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি সুরকার সুবল দাসে'র মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি সুরকার সুবল দাসে'র মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি সুরকার সুবল দাসে'র মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতাঙ্গনের অমর স্রষ্টাদের অন্যতম ছিলেন সুবল দাস। সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, বেতার ও টেলিভিশনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী—এক জীবনে তিনি সঙ্গীতকে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতা।

 

১৯২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্ম নেন তিনি। বাবা রশিকলাল দাস ও মা কামিনী দাসের উৎসাহেই শৈশব থেকে সঙ্গীতচর্চা শুরু। ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান ও ওস্তাদ আয়াত আলী খানের কাছে সেতারে তালিম নিয়ে গড়ে ওঠেন এক দক্ষ শিল্পী হিসেবে। সঙ্গীতের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ছিল প্রবল ঝোঁক—নিয়মিত খেলতেন ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে।
১৯৫৯ সালে ফতেহ লোহানী পরিচালিত আকাশ আর মাটি চলচ্চিত্রে প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন সুবল দাস। সেই ছবির মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে "তবে কি আমার নেই কোন ঠাঁই" গানটি হয়ে ওঠে কালজয়ী।

 

১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বেতারে সঙ্গীত পরিচালক, এবং ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে সুরকার হিসেবে যোগ দেন। বাংলা ও উর্দু উভয় চলচ্চিত্রেই সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।
তাঁর সুরকৃত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগানগুলোর মধ্যে—
গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে (স্বরলিপি)
আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে (আলো তুমি আলেয়া)
এই পৃথিবীর পান্থশালায় (যোগ বিয়োগ)—বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।


যে কণ্ঠে তাঁর সুরের জাদু ছড়িয়েছিল
রুনা লায়লা – গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে, জীবন আধারে পেয়েছি তোমারে, এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা, শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব, যখন থামবে কোলাহল, পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম
মাহমুদুন্নবী – তুমি যে আমার কবিতা, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে, ও মেয়ের নাম দেব কি ভাবি শুধু তাই


সাবিনা ইয়াসমিন – সন্ধ্যায় ছায়া নামে এলোমেলো হাওয়া, ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া
আব্দুল হাদী – এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে
আব্দুল জব্বার – শত্রু তুমি বন্ধু তুমি, তুমি আমার সাধনা
আবিদা সুলতানা – একি বাঁধনে বলো জড়ালে আমায়

 

তার সুরে ফুটে উঠেছে বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ, দেশপ্রেম, অন্তরের গভীর আবেগ ও মানবতাবোধ। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেতার ও টেলিভিশনের জন্য অসংখ্য অমর গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
দুঃখজনক হলেও সত্য—মৃত্যুর পরও এই অসামান্য শিল্পী কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি।
২০০৫ সালের ১৬ আগস্ট, সঙ্গীতজগতকে কাঁদিয়ে চলে যান সুবল দাস।
তাঁর সৃষ্টির জাদু আজও বাংলার আকাশে বেজে ওঠে।শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা – সুরের জাদুকর সুবল দাসের প্রতি।