বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি, হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠের অধিকারী, গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু-র জন্মদিন

আজ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি, হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠের অধিকারী, গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু-র জন্মদিন

আজ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি, হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠের অধিকারী, গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু-র জন্মদিন

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে। বাবা ইশহাক চৌধুরী ও মা নুরজাহান বেগমের সন্তান এবি (AB) ছিলেন তিন ভাইবোনের মধ্যে বড়। সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম হলেও তিনি সঙ্গীতকেই জীবনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, যা প্রথমে পরিবার মেনে নিতে পারেনি।

 

১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে তার সঙ্গীতজীবন শুরু হয়। এরপর প্রায় দশ বছর সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করার পর ১৯৯১ সালে তিনি নিজস্ব ব্যান্ড এলআরবি (Love Runs Blind) গঠন করেন, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। রক ঘরানার হলেও তিনি আধুনিক গান, ক্লাসিকাল ও লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

 

প্রথম কণ্ঠ দেওয়া গান ছিল “হারানো বিকেলের গল্প” (কথা: শহীদ মাহমুদ জঙ্গী)। প্রথম একক অ্যালবাম রক্তগোলাপ (১৯৮৬) তেমন সাফল্য পায়নি, তবে দ্বিতীয় অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) থেকেই শুরু হয় তার সাফল্যের যাত্রা। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত কষ্ট অ্যালবামটি সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামগুলোর একটি—কষ্ট কাকে বলে, কষ্ট পেতে ভালোবাসি, অবাক হৃদয়, আমিও মানুষ গানগুলো আজও অমর।


বাংলা চলচ্চিত্রে বহু জনপ্রিয় প্লেব্যাক করেছেন। অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে ছিল তার প্রথম সিনেমার গান। গিটার বাজনায় তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে খ্যাতি পান, বিশেষ করে জিমি হেন্ড্রিক্স ও জো স্যাট্রিয়ানী তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। ঢাকার মগবাজারে তার নিজস্ব স্টুডিও AB Kitchen-এ অসংখ্য জনপ্রিয় গান রেকর্ড হয়েছে। ২০১০ সালে ঈদের নাটক ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি-তেও অভিনয় করেছিলেন।

 

১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেন। তাদের এক মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব এবং এক ছেলে আহনাফ তাজওযার আইয়ুব।


দীর্ঘ ছয় বছর ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভুগে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে রংপুরে তার জীবনের শেষ কনসার্টটি করেছিলেন। চট্টগ্রামের চৈতন্য গলিতে মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

 

আজ এই কিংবদন্তির ৬৪-তম জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
তুমি চলে গিয়েও রয়ে গেছ প্রতিটি সুরে, প্রতিটি গিটারের তারে, আর অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে।