প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ম্রাসাথোয়াই মারমা। একই সঙ্গে ১৪ জন সদস্য নিয়ে নতুন করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৭ এর ১৬ক (৪) উপধারা এবং ২০১৪ সালের সংশোধিত আইনের ২(২) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নতুন পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
এর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে পরিষদের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়।
এর পরদিন জেলা পরিষদের সদস্য সেফালিকা ত্রিপুরাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার সেই নিয়োগ বাতিল করে ম্রাসাথোয়াই মারমাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগের পরিষদ পুনর্গঠন করে নতুন ১৫ সদস্যের পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ম্রাসাথোয়াই মারমা সরাসরি বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন।
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যরা হলেন-খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক মিন্টু, মোশারফ হোসেন, শান্তিপ্রিয় চাকমা, দেবরানী চাকমা, ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, কুহেলী দেওয়ান, তাছলিমা সিরাজ সিমা, ক্যরী মগ, মংসাপ্রু চৌধুরী, রুমেল মারমা, নারায়ণ ত্রিপুরা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা ও রিপল চাকমা।
নতুন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় সেবামূলক কার্যক্রমে নতুন পরিষদের ভূমিকার দিকে নজর থাকবে স্থানীয়দের