সলামী বিশ্বের ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা নিয়ে তেহরানে শুরু হয়েছে ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলন। বৃহস্পতিবার তেহরানের সামিট হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম, ধর্মীয় নেতা, কূটনীতিক, বিজ্ঞানী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ প্রায় ৬০০ দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।
বিশ্ব চিন্তাধারার নৈকট্য ফোরামের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম হামিদ শাহরিয়ারি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানসহ দেশি-বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে গত এক বছরের বিভিন্ন ঘটনাবলির কথা তুলে ধরেন শাহরিয়ারি। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ইরান ইসলামী দেশগুলো ও বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের জন্য একটি আদর্শ। তাঁর দাবি, ইরানের অগ্রগতি ও শক্তিশালী হয়ে ওঠাকে প্রতিহত করতেই দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার প্রসঙ্গে শাহরিয়ারি বলেন, দেশটির প্রতিপক্ষরা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, উন্নত অবকাঠামো, তেল ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, সরকার ও নেতৃত্বও ইরানের জাতীয় সংহতি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাবের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শাহরিয়ারি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মিনাব স্কুলের নিরীহ শিক্ষার্থীদের শহীদ করে আপনারা কী লাভ করেছেন? একই সঙ্গে এ ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি।
ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপের প্রসঙ্গে শাহরিয়ারি বলেন, সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পরও যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি দাবি করেন, ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও কৌশলগত ড্রোন সক্ষমতা এবং সামরিক প্রতিরোধ দেশটিকে আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মার্কিন উপস্থিতির বিষয়ে ইসলামী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাহরিয়ারি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে বাইরের শক্তির উপস্থিতি সবসময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; বরং ভবিষ্যতে নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে।
তাঁর মতে, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, তুরস্ক, লেবানন, আফগানিস্তান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশসহ বিভিন্ন ইসলামী দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
এ ছাড়া তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, প্রধান ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ দেশি-বিদেশি অতিথির অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
