হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগীরা। এ সময় নিম্নমানের ধান সংগ্রহ, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নেওয়া, কৃষক কার্ডবিহীন ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া এবং সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান না নিয়ে বাইপাস করে রাইস মিলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজারহাট প্রেসক্লাব চত্বরে ‘দুর্নীতি বন্ধ হোক, ন্যায্যতার প্রতিশ্রুতি হোক’ স্লোগানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা খাদ্য গুদামের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আঃ কুদ্দুস বলেন, “রাজারহাট খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি মোঃ হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম ও কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করা, কৃষক কার্ডবিহীন ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
কৃষক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, “ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে আমরা একাধিকবার রাজারহাট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাসুদা বেগমের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি জেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি কিছু জানেন না, সবকিছু কর্তৃপক্ষ জানে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
ভুক্তভোগী কৃষক মনি মিয়া বলেন, “আমরা প্রকৃত কৃষক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি নিয়মে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অথচ যাদের কৃষক কার্ড নেই, তারাও বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক সোনা মিয়া বলেন, “সরকার কৃষকদের সুবিধার জন্য ধান সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছে। কিন্তু রাজারহাটে অনেক প্রকৃত কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান নেওয়ার কথা থাকলেও তা বাইপাস করে রাইস মিলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
মানববন্ধনে কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নয়ন আলী, রেজাউল করিম, পলাশ মোল্লা, মনি মিয়া ও সোনা মিয়া।
এছাড়াও কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আঃ কুদ্দুস, শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী ও আসাদুর রহমান।
বক্তারা বলেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হলে সরকারের এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই দ্রুত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এসময় এলাকার সাধারণ কৃষক, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন