সোনম খানের জন্ম বখতাওয়ার খান নামে, তার বাবা-মা মনসুর খান ও তালাত খানের ঘরে। তিনি ছিলেন অভিনেতা মুরাদের নাতনী, অভিনেতা রাজা মুরাদ তার মামা এবং অভিনেত্রী সানোবের কবির তার চাচাতো বোন। যশ চোপড়ার পরামর্শে তিনি ‘সোনম’ নাম গ্রহণ করেন।
১৯৮৭ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন তেলেগু ছবি সম্রাট-এ। এরপর যশ চোপড়ার বিজয় (১৯৮৮) সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ঋষি কাপুরের নায়িকা হিসেবে।
১৯৮৯ সালে নয়টি ছবি মুক্তি পায় তার। সেখানেই ত্রিদেব ছবির জনপ্রিয় গান “ওয়ে ওয়ে… তিরচি টোপি ওয়ালে” তাঁকে সর্বভারতীয় পরিচিতি এনে দেয়। একই বছরে চাঙ্কি পান্ডের সঙ্গে মিত্তি অর সোনা ছবিতে অভিনয়ের জন্যও প্রশংসিত হন।
১৯৯০ সালে দশটি ছবি মুক্তি পায়, যার মধ্যে ছিল ব্লকবাস্টার ক্রোধ। একই বছর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার একমাত্র বাংলা ছবি মন্দিরা মুক্তি পায়। এছাড়া তিনি চিরঞ্জীবীর নায়িকা হিসেবে তেলেগুর সুপারহিট ছবি কোডামা সিংহম-এ অভিনয় করেন।
১৯৯১ সালে তার অন্যতম আলোচিত কাজ ছিল আজুবা, যেখানে তিনি অমিতাভ বচ্চন, ডিম্পল কাপাডিয়া ও ঋষি কাপুরের সঙ্গে অভিনয় করেন। একই বছর ফতেহ ছবিতে সঞ্জয় দত্তের বিপরীতে তার অভিনয়ও প্রশংসিত হয়।
১৯৯১ সালে সোনম পরিচালক রাজীব রাইকে বিয়ে করেন। রাজীব ছিলেন ত্রিমূর্তি ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান রাইয়ের ছেলে এবং ত্রিদেব ও বিশ্বাত্মা ছবির পরিচালক। বিয়ের পর তিনি নতুন কোনো প্রজেক্ট নেননি, কেবল আগে স্বাক্ষরিত কয়েকটি ছবি (বাজ, পুলিশ ওয়ালা, ইনসাফ আপনে লাহু সে) শেষ করেন।
এই দম্পতির একটি ছেলে রয়েছে, যার অটিজম ধরা পড়ে। তারা দীর্ঘদিন লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন এবং পরে ইউরোপে স্থায়ী হন। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন টেকেনি—২০১৬ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেন।
প্রায় ৩০ বছর পর, ২০২৩ সালে সোনম মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড প্লাজা-য় প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন। বর্তমানে তিনি তার ছেলের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।
সোনম খান তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঝলমলে ক্যারিয়ার দিয়ে ৮০-৯০-এর দশকে হিন্দি ও তেলেগু সিনেমায় এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।
শুভ জন্মদিন সোনম খানকে— দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করি।