বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বামীহারা মেরি খাতুনের পরিবারের পাশে মাগুরা সদর ইউএনও মেহেরুন্নাহার

স্বামীহারা মেরি খাতুনের পরিবারের পাশে মাগুরা সদর ইউএনও মেহেরুন্নাহার

স্বামীহারা মেরি খাতুনের পরিবারের পাশে মাগুরা সদর ইউএনও মেহেরুন্নাহার

মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি:

মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুইতারা এলাকায় মৃত সমীর মোল্লার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার।

গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সমীর মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মোছা. মেরি খাতুন ও সাত সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি।

জানা যায়, সমীর মোল্লার বড় সন্তানের বয়স ১৬ বছর। অন্যদিকে, পরিবারের সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ মাস। সাত সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে সমীর মোল্লার মৃত্যুতে পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পরিবারটির অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পারেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেরুন্নাহার। পরে তিনি নিজে জুইতারা এলাকায় গিয়ে মেরি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং  মেহেরুন্নাহার নিজস্ব অর্থায়নে পরিবারের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

গ্রাম পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সমীর মোল্লার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে। সংসার চালানোর মতো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল কোনো ব্যক্তি পরিবারটিতে নেই—বিষয়টি জানতে পেরে আমি ইউএনও মহোদয়কে জানাই। পরিবারের অবস্থা শোনার পর তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।”

পরিবারটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ইউএনও মেহেরুন্নাহার সরকারি অর্থায়নে তাদের জন্য টিনের ঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, অসহায় পরিবারটির এমন দুরবস্থার কথা জানতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসীও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটির মাঝে।

স্বামীকে হারিয়ে সাত সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি মেরি খাতুন উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন। স্থানীয়রা পরিবারটির সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও  মেহেরুন্নাহার এমন মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশংসা করেছেন।