পিরোজপুর প্রতিনিধি:
করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়ে মানবতার সেবার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করা কলাখালী ইউনিয়ন যুব স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গুটি গুটি পায়ে প্রায় ছয় বছর অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য সংগঠনটির নতুন কার্যকরী পরিষদও গঠন করা হয়েছে।
১৫ এপ্রিল ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কলাখালী ইউনিয়ন যুব স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ ও ‘প্রজেক্ট অক্সিজেন’, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তদাতা সংগ্রহ, অসহায় মানুষের জন্য ফান্ড সংগ্রহ ও সহায়তা প্রদান, অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা, চোখের অপারেশনের জন্য আর্থিক সহায়তা, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা ফান্ড, ক্যারিয়ার সেমিনারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ।
সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বড় কোনো সামর্থ্যের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। ছোট ছোট উদ্যোগই একসময় বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
“ভালো কাজ কখনো ছোট হয় না; একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোও একটি বড় অর্জন।”
আরেকটি প্রচলিত প্রবাদ - “একটি ভালো উদ্যোগ অনেক মানুষের অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে।” সেই বিশ্বাসকে ধারণ করেই সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের সময়, শ্রম ও সামর্থ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ রাখা হয়েছে।
নতুন কার্যকরী পরিষদে সভাপতি হিসেবে মো. রানেল হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. কামাল হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি আগের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন সামাজিক ও মানবিক প্রকল্প গ্রহণ করতে চায়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, রক্তদান ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের পথচলায় সংগঠনটি প্রমাণ করেছে একদল তরুণের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগও একটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
“যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই স্বেচ্ছাসেবীর হাত—মানবতার সেবাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
নতুন কার্যকরী পরিষদের নেতৃত্বে কলাখালী ইউনিয়ন যুব স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন আরও সুন্দর, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
সংগঠনের আগামী দিনের পথচলা আরও সফল ও সুন্দর করতে কলাখালী ইউনিয়নসহ সর্বস্তরের এলাকাবাসীর দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন সংগঠনের নতুন কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।