ইতোমধ্যে ভেনিসে অবস্থান করছেন সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী ও সংশ্লিষ্টরা।
ইতালি থেকে শরিফুল ইসলাম টগর
লালগালিচায় বাংলাদেশের অপেক্ষা, ভেনিসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে বাংলাদেশি তারকারা
বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তারকা, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মিলনমেলায় এবার নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভেনিসের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতামূলক অরিজোন্তি (Orizzonti) বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা ভেনিস উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে ভেনিসে অবস্থান করছেন সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী ও সংশ্লিষ্টরা। লালগালিচায় পা রাখার অপেক্ষায় রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল, রিকিতা নন্দিনী শিমু, জাইনীন চৌধুরী করিমসহ সিনেমাটির কলাকুশলীরা। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন। সিনেমাটিতে বিয়েকে ঘিরে সামাজিক প্রত্যাশা, নারীর ওপর চাপ এবং ব্যক্তিসত্তার টানাপোড়েনকে ভিন্নধর্মী মনস্তাত্ত্বিক আবহে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটির ভাষা বাংলা ও ইংরেজি এবং এটি বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনা।
ভেনিস উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে নির্বাচিত হওয়া শুধু একটি সিনেমার সাফল্য নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত হলেও ভেনিসের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলাদেশি সিনেমার এই প্রবেশ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
এদিকে ভেনিসের লিডোতে এখন তারকাদের আনাগোনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতাদের উপস্থিতিতে মুখর উৎসব প্রাঙ্গণ। সেই আন্তর্জাতিক তারকাদের ভিড়ে বাংলাদেশের শিল্পীদের উপস্থিতিও তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ।
বাংলাদেশি দর্শকদের চোখ এখন ভেনিসের লালগালিচায়। কবে, কীভাবে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াবেন দেশের তারকারা—সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর। আর বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ।
লালগালিচায় যখন বাংলাদেশি শিল্পীরা পা রাখবেন, সেটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জনের মুহূর্ত হবে না—সেই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে নতুন করে উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নাম।
ইতিহাসের সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় এখন ভেনিস, অপেক্ষায় বাংলাদেশ।