মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ইকরাম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে কুড়াল দিয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ইকরাম হোসেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেলিনা খাতুন (২৮)। তিনি নাকোল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার স্বামী মির্জা তরিকুল ইসলামের ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমি নিয়ে জাকির হোসেন মোল্যার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে জাকির হোসেন মোল্যা ওই জমিতে জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শ্রীপুর ভূমি অফিসের পরিচয়ে দুই ব্যক্তি সেলিনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে জানান, শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোধীয় জমি পরিদর্শনে আসবেন। পরে সেলিনা খাতুন তার স্বামীর ভগ্নিপতি মো. ইকরাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওই জমিতে যান।
সেলিনা খাতুনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জাকির হোসেন মোল্যা হাতে থাকা লোহার কুড়াল দিয়ে ইকরাম হোসেনকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইকরাম হোসেনের বাম পায়ের হাঁটুর নিচের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাসান, জাফর (শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সদস্য), বিশ্বজিৎ (নায়েব, শ্রীপুর উপজেলা এসিল্যান্ড অফিস)সহ স্থানীয় লোকজনের সামনে জাকির হোসেন মোল্যা তাদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে আহত ইকরাম হোসেনকে চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী সেলিনা খাতুন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন মোল্যা বলেন, “আমি কুড়াল দিয়ে কাউকে আঘাত করিনি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
