বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ENTER TV


ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন আদালাহ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলে পরিচালিত সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত ও শুনানি শুরু করেছে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।আদালাহর তথ্য অনুযায়ী, ৮০টির বেশি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনো ধরনের শুনানি করার আগেই শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। এমনকি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রায় ২০টি ঘটনায় শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে অথবা এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের নীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের মতো বিভিন্ন ধরনের মতপ্রকাশের কারণে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালাহ আরও অভিযোগ করেছে, কিছু শিক্ষার্থীকে অভিযোগের বিষয় না জানিয়েই শাস্তিমূলক কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পোস্টটি কখন করা হয়েছিল বা সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি সত্যিই ওই শিক্ষার্থীর কি না, সেটিও যাচাই করেনি। তবে আদালার দাবি, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শাস্তিমূলক ক্ষমতার সীমা বাড়িয়ে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, ইহুদি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা বজায় রেখেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইহুদি শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান কিংবা বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।

এই পরিস্থিতিকে ‘দুই-ট্র্যাক অ্যাপার্টহেইড ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আদালাহ। সংগঠনটির মতে, এর ফলে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং এটি জাতিগত বৈষম্য ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব নাগরিক। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ এবং এমন বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।তবে গাজা যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎস ও সর্বশেষ পরিসংখ্যান যাচাই করে নেওয়া উচিত।