দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অঞ্চলটির বিভিন্ন গ্রামে হামলার পাশাপাশি স্থাপনা ও ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, টায়ার জেলার আল-মানসুরিতে সকালজুড়ে দফায় দফায় ইসরায়েলি হামলা ও বিস্ফোরণ হয়েছে। আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের শব্দ টায়ার শহর ও আশপাশের গ্রামগুলো থেকেও শোনা যায়।
হামলায় শহরের একটি সরকারি স্কুলের বড় অংশও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে শুক্রবারের হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।এর কয়েক ঘণ্টা আগে নাবাতিয়েহর কাছে আলি আল-তাহের এলাকায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সেখানে হিজবুল্লাহর দুই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই স্থাপনায় কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র, আবাসন ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা ছিল।বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও দক্ষিণ লেবাননে ভূকম্পন শনাক্ত করে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সেনারা আলি আল-তাহের এলাকা থেকে সরে গিয়ে শাকিফের আশপাশে পেছনের অবস্থানে পুনর্বিন্যাস করেছে। তবে ওই এলাকায় ইসরায়েলের ‘গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় থাকবে এবং হিজবুল্লাহ সেখানে আবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান আরও বিস্তৃত করার জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকাকে তিনি ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কাঠামোগত চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। চলমান হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ ও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী নন।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার অষ্টম দফা ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর রোমে হতে পারে। আলোচনায় নির্ধারিত এলাকাগুলো হিজবুল্লাহ সদস্যশূন্য কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর লেবাননের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি উঠতে পারে।
তবে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের তারিখ নিয়ে বৈরুত এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পায়নি।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ২৬ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েল ওই কাঠামো লঙ্ঘন করেছে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ বার। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ সর্বশেষ যুদ্ধ শুরুর পর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩৮৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৬ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া জুনের যুদ্ধবিরতির পরও তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের আল-মানসুরিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এখনো বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
