কিশোরগঞ্জ শহরে এক তরুণকে রাস্তায় আটক করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ৩০ থেকে ৩২ জনের একটি দল মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন খরমপট্টি এলাকার তরুণ আলভী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের রথখোলা এলাকা থেকে আলভীকে একদল কিশোর আটক করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে হোসেনপুর সড়কের নেহাল গ্রীন পার্কের কাছে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ জন মিলে আলভীকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফেরার পরও তাকে আবার মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পরে আহত অবস্থায় আলভীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার রক্তাক্ত অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কিশোরগঞ্জ শহরে দলবদ্ধ কিশোরদের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে? একজন তরুণকে প্রকাশ্যে আটক করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে এতজন মিলে মারধর করার মতো পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো?
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরদের একটি অংশের মধ্যে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, ভয় দেখানো ও সংঘবদ্ধ মারধরের প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
উল্লেখ্য, রোববার কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে রাতে শহরের একটি এলাকায় এমন হামলার অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মদদদাতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করা জরুরি।
আলভীর ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আহত তরুণের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ শহরকে দলবদ্ধ সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি