মাগুরায় পৌরসভার অনুমোদিত একটি বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ভবন মালিক, দোকানদার ও দোকান মালিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, হাইকোর্টে রিট চলমান থাকা এবং আদালতের আদেশের অনুলিপি জেলা প্রশাসনকে দেওয়ার পরও গত ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভবন ও দোকানপাটে তালা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দোকানপ্রতি ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা করে নিয়ে নতুন করে এক বছরের জন্য লিজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত চুক্তি বা নথি তারা দেখাতে পারেননি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী ভবন মালিক, দোকানদার, তাদের পরিবারের সদস্য ও দোকান মালিক প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মাগুরা মৌজার এসএ ৪০১ ও আরএস ৬৯ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৮ শতক জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ ছাড়াই সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে দাবি করে তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ১১৭৭০/২০২৬ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করে ৬০ দিনের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে লিখিতভাবে দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
তাদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করার পরদিন, ১৫ সেপ্টেম্বর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ভবন ও দোকানপাটে তালা দেওয়া হয়। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেন, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা করে নিয়ে নতুন করে এক বছরের জন্য লিজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই অর্থ দিতে না পারলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে এক বছরের লিজের বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা চুক্তিপত্র তাদের দেখানো হয়নি।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জায়গাটি সরকারি জমি। সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে নতুন করে এক বছরের জন্য ডিসিআর (ডাকুমেন্ট অব রাইটস/ইজারা সংক্রান্ত সরকারি বন্দোবস্ত) কাটতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই সংশ্লিষ্টরা দোকানগুলোতে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, ভবনের দোকানদারদের একটি বড় অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ কারণে তারা সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যেও রয়েছেন বলে জানান। কয়েকজন ব্যবসায়ী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের ব্যবসা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দোকান মালিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তারা দ্রুত তালা খুলে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এ সময় ভুক্তভোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত সমাধান না হলে আদালত অবমাননাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তারা।
মো: সাজ্জাদ হোসেন,
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি