গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে তিন দিনব্যাপী বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা।
উপজেলার রামদিয়া আশা ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে গত ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, প্যারালাইসিস ও বাতজনিত সমস্যায় ভোগা ১৬৪ জন নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, পরামর্শ ও থেরাপি গ্রহণ করেন।
ক্যাম্প পরিচালনা করেন ফিজিওথেরাপিস্ট রুপা আক্তার।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামদিয়া কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, আশা’র সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার প্রতাপ কুমার দাস, রামদিয়া ব্রাঞ্চের ম্যানেজার এম আমিনুর রহমানসহ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা রামদিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব রহিমা বেগম বলেন, “দুই বছর ধরে হাঁটুর ব্যথায় ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে থেরাপি নিতে পারি নাই। আশা’র এই ক্যাম্পে বিনা পয়সায় থেরাপি পেয়ে অনেক আরাম পাইছি।”
আরেক সেবাগ্রহীতা ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, “কোমরের ব্যথার জন্য কাজ করতে পারতাম না। আজ থেরাপি ও ব্যায়াম শিখিয়ে দিয়েছে। ওষুধপত্রও বিনামূল্যে দিয়েছে। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক বড় উপকার।”
স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “ঘাড়ের ব্যথায় দীর্ঘদিন ভুগছিলাম। এখানে এসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পেলাম। এমন উদ্যোগ আরও হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে আশা’র কাশিয়ানী অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার প্রতাপ কুমার দাস বলেন, “আশা শুধু ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নয়। আমরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম, আছি এবং সবসময় থাকব। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যারা অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে না, তাদের জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা আশার আলোয় সবাইকে আলোকিত করতে চাই।”
রামদিয়া ব্রাঞ্চের ম্যানেজার এম আমিনুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে আশা নিয়মিত এ ধরনের ক্যাম্প করে থাকে। ভবিষ্যতেও কাশিয়ানীতে চক্ষু, ডায়াবেটিস ও মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্যাম্প করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে
কাশিয়ানী প্রতিনিধি: