বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল রানার চাকুরিচ্যুত,গ্রেফতার ও সঠিক বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার(২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আমলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এতে অংশগ্রহণ করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথীরা। অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানা শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কচুবাড়ীয়া চরপাড়া গ্রামের মোকছেদ মোল্লার ছেলে। প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক সোহেল রানার চরিত্র ভালো নয় এবং অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠলেও পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে তা মিমাংসা করা হয়। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে উক্ত শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত,গ্রেফতার ও সঠিক বিচারের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে না ফেরার ঘোষণা দিয়ে ক্লাস বর্জন করেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী মানিক চন্দ্র রায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং উক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হবে। তোমরা আন্দোলনের পথ ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাও।" স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর।
অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানার স্ত্রী রুপা বেগম স্বামী ও আমলসার গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন মিতুর (১৮) মধ্যকার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ওই যুবতীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। নিলুফা আমলসার গ্রামের নূর মোহাম্মদের মেয়ে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্ত্রী রুপা বেগম সাংবাদিকদের জানান, "গত তিন বছর ধরে আমার স্বামী নিলুফার সাথে পরকীয়ায় জড়িত। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত এবং আমার স্বামী নিজের মুখেও তা স্বীকার করেছে। সে আমাকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। আমাদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমি আমার সংসার বাঁচাতে বাধ্য হয়ে নিলুফার বাড়িতে এসেছি।" রুপা আরও অভিযোগ করেন, তিনি নিলুফার বাড়িতে অবস্থানের কথা সোহেল রানাকে জানালে সোহেল তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। শিক্ষকের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আমলসার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোহেল রানা,শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
