জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোসহ নাগরিকদের সব ধরনের তথ্যের নিরাপত্তায় সরকার ডিজিটাল আইডি এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) পলিসি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলন ‘ইনফোসেককন-২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় সরকারের এসব পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
দেশের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ইনফোসেক বুলেটিন’ দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে সাইবার নিরাপত্তা খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এই), ডেটা সেন্টার, টেলিযোগাযোগ, বিমান চলাচল, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পায় জাতীয় এআই কৌশল ও নিরাপদ এআই ব্যবহারের কাঠামো। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ-উপযোগী ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
টেলিযোগাযোগ খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সেশনে দেশের বিপুলসংখ্যক মোবাইল গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Inside The Hacker’s Mind: Attacks, Defense & Cyber Careers’ শীর্ষক বিশেষ সেশন। এতে সাইবার হামলার কৌশল ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাশাপাশি মেইল সার্ভার কীভাবে আক্রমণের শিকার হতে পারে, তার একটি লাইভ ডেমোন্স্ট্রেশন দেখানো হয়।
এছাড়া র্যানসমওয়্যার আক্রমণের একটি বাস্তবভিত্তিক সিমুলেশনের মাধ্যমে সাইবার হামলার সময় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং আক্রমণ মোকাবিলার কৌশলও প্রদর্শন করা হয়।
ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া ও সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার ক্যারিয়ার, প্রশিক্ষণ, গেম ও হ্যাকিং চ্যালেঞ্জের ব্যবস্থা ছিল।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
