মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্য পরিচালক,  নির্মাতা কচি খন্দকারের জন্মদিন

আজ অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্য পরিচালক,  নির্মাতা কচি খন্দকারের জন্মদিন

আজ অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্য পরিচালক,  নির্মাতা কচি খন্দকারের জন্মদিন


বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের জগতে কচি খন্দকার একটি পরিচিত ও স্বতন্ত্র নাম। অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যরচনা ও পরিচালনায় তাঁর নিজস্ব গল্প বলার ধরন তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী বিষয়, সমকালীন জীবন, মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এবং পরিচিত কথাবার্তার ভেতর থেকে নাটকের উপাদান খুঁজে নেওয়ার জন্য তিনি আলোচিত।

 

শৈশব ও পারিবারিক পরিচয়
কচি খন্দকার কুষ্টিয়ার সন্তান। তাঁর বাবা খন্দকার খায়রুল আনাম ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পেশাদার ফুটবলার; তিনি গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেন। মা খন্দকার আনোয়ারা বেগম মায়া। সাত ভাইবোনের মধ্যে কচি খন্দকার দ্বিতীয়। বাবার কাছ থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় এবং তিনিও ভালো ফুটবল খেলতেন বলে বিভিন্ন জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।


কুষ্টিয়ার মুসলিম হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। স্কুলজীবন থেকেই অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।


অভিনয় থেকে নির্মাণে
অভিনেতা হিসেবে কচি খন্দকারের স্বতন্ত্র উপস্থিতি খুব সহজেই দর্শকের নজর কেড়েছে। আবার শুধু অভিনয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি—গল্প লেখা ও নাটক নির্মাণেও তৈরি করেছেন নিজের আলাদা অবস্থান।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা টেলিভিশন নাটকের সৃজনশীল পরিমণ্ডলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ‘ভাই-বেরাদার’ আড্ডার অন্যতম পরিচিত সদস্য হিসেবেও তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্মে তাঁর লেখক হিসেবে যুক্ত থাকার কথাও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজেই স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন।

 

উল্লেখযোগ্য কাজ
কচি খন্দকারের অভিনয় ও নির্মাণজীবনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—
ব্যাচেলর (Bachelor)
৪২০ মেইড ইন বাংলাদেশ (Made in Bangladesh)
গেরিলা (Guerrilla)
ক্যারাম (Carrom)
খসরু+ময়না (Khosru + Moyna)
নো কোশ্চেন নো অ্যানসার (No Question No Answer) ইয়েস বস নো বস
এছাড়াও তাঁর অভিনয়জীবনে বিভিন্ন টেলিভিশন নাটক, টেলিফিল্ম ও চলচ্চিত্র যুক্ত হয়েছে। IMDb-তেও তাঁকে অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


বিশেষ করে ‘খসরু+ময়না’ তাঁর নির্মাণজীবনের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। প্রায় দুই দশক আগে নির্মাতা হিসেবে তাঁর প্রথমদিকের কাজের মধ্যে এই নাটকের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার নগরজীবন ও মানুষের নানা টানাপোড়েন নিয়েও নাটক নির্মাণ করেছেন।

 

প্রবাদ থেকে নাটকের গল্প
কচি খন্দকারের সৃষ্টিশীলতার একটি অভিনব দিক হলো—বাংলা ভাষায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত প্রবাদবাক্যকে কেন্দ্র করে নাটকের গল্প নির্মাণ। তাঁর নির্মিত ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বে একটি করে প্রচলিত প্রবাদকে ভিত্তি করে আলাদা গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিনব ভাবনার কারণে কাজটি দর্শক ও নাট্যাঙ্গনে আলোচনাও তৈরি করেছিল।

 

অভিনয়ে স্বতন্ত্রতা
কচি খন্দকারের অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর সহজাত ও স্বাভাবিক উপস্থিতি। কখনো সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ, কখনো বাবা, কখনো পরিচিত সমাজের কোনো সাধারণ চরিত্র—বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁকে দেখা গেছে। ‘ব্যাচেলর’-এর মতো চলচ্চিত্রেও তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা ছাপ রেখেছে। তাঁর অভিনীত কাজের তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ের চলচ্চিত্র ও নাটকও রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সৃষ্টিশীল কাজ সম্পর্কে বলেছেন যে, তাঁর লেখা বা নির্মিত কনটেন্টগুলোকে তিনি অন্যদের কাজের পুনরাবৃত্তি না করে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘদিনের এই সৃজনশীল অনুসন্ধানই তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

অভিনয়, গল্প বলা ও নির্মাণ—তিন ক্ষেত্রেই নিজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখা এই গুণী শিল্পীকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
শুভ জন্মদিন, কচি খন্দকার।


আপনার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, আনন্দময় জীবন এবং আরও সৃজনশীল কাজের প্রত্যাশা রইল।
বাংলা নাটক ও অভিনয়জগতে আপনার সৃষ্টিশীল পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এই কামনা।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা