জন্ম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরে।
পড়াশোনা: হুগলী মহসিন কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৯৮০ সালে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয় ‘দাদার কীর্তি’ ছবির মাধ্যমে। কেদার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ছবিটিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন মহুয়া রায়চৌধুরী। এরপর ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবিতে দেবশ্রী রায়ের বিপরীতে অভিনয় করে বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
১৯৮১ সালে ‘সাহেব’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি পান ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
এরপর টানা কয়েক দশক বাংলা সিনেমার আকাশে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলির মধ্যে রয়েছে—
সুরের ভুবনে, গুরু দক্ষিণা, মায়া মমতা, সমাপ্তি, চোখের আলো, অন্তরঙ্গ, সাহেব, পর্বতপ্রিয়, দিপার প্রেম, মেজ বউ, পথভোলা, আশীর্বাদ, পরশমণি, সুরের আকাশ, শুধু ভালোবাসা ইত্যাদি।
তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় জুটি ছিল দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে।
শুধু টলিউড নয়, তিনি অভিনয় করেছেন বলিউডেও। মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবি ‘অবোধ’ (১৯৮৪)-তে নায়ক ছিলেন তাপস পাল। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল শঙ্কর আর মাধুরীর ছিল গৌরী।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন।
২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ (এমপি) হন।
২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই জনপ্রিয় অভিনেতা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
তাপস পাল বাংলা চলচ্চিত্রে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের নাম। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আজও দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এই প্রিয় অভিনেতাকে।