বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পঞ্চগড়ে স্বামী হারানোর শোক সইতে পারলেন না স্ত্রী, কয়েক ঘণ্টা পরই রেললাইনে নিথর দেহ

পঞ্চগড়ে স্বামী হারানোর শোক সইতে পারলেন না স্ত্রী, কয়েক ঘণ্টা পরই রেললাইনে নিথর দেহ

পঞ্চগড়ে স্বামী হারানোর শোক সইতে পারলেন না স্ত্রী, কয়েক ঘণ্টা পরই রেললাইনে নিথর দেহ

মো.মাহাবুব আলম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

স্বামীর মৃত্যুর শোক যেন সইতে পারলেন না ৭০ বছরের নিত্য বালা বর্মণ। স্বামীর মরদেহ বাড়িতে রেখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির পাশের রেললাইনে পাওয়া গেল তার মরদেহ। স্বজনদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে পঞ্চগড়গামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। নিহত নিত্য বালা বর্মণ ওই গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণের স্ত্রী। তার স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। স্ত্রী নিত্য বালাও নিয়মিত তার সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর তার মরদেহের পাশে বসেই সারারাত কাঁদেন নিত্য বালা। স্বজনদের ভাষ্য, স্বামীকে হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, নিত্য বালা বাড়িতে নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের রেললাইনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। পরে জানা যায়, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর একই দিনে পারিবারিক ফসলি জমির পাশে প্রস্তুত করা শ্মশানে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।
নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাতে বাবা মারা যাওয়ার পর মা সারারাত তার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।
স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।