রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চুরি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন কিশোর রয়েছে। পরে আটক দুই কিশোরকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।শনিবার (৪ অক্টোবর) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের পৃথক আভিযানিক দল রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠনের অভিযোগে মোহাম্মদ জুনায়েদ (৩১), মোঃ ইব্রাহিম খলিল (২৩) ও মোঃ হৃদয় (২৪)কে আটক করা হয়। মোহাম্মদ জুনায়েদ রাঙামাটি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে পুলিশ জানিয়েছে।এ ছাড়া চুরি সংগঠনের অভিযোগে মোঃ রাকিব (২০) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
মাদক সেবনের অভিযোগে জেকিসন তংচঙ্গা (২৯) ও পবিত্র চাকমা (২৭)কে আটক করা হয়। অপরদিকে মাদক কারবারের অভিযোগে মোঃ জাহিদ (২০) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, অভিযানে জাহিদ আলম (১৬) নামে এক কিশোরকে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়। এছাড়া মোঃ ইউসুফ (২৬) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করা হয়। ইউসুফকে তার স্ত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।পরে আটক দুই কিশোরের পরিবারের সদস্যরা তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের অভিভাবকদের মুচলেকা গ্রহণ করা হয়। এরপর দুই কিশোরকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।কোতয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হবে।পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি
