কল্যান রায় জয়ন্ত
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামকে ঘিরে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পুরোনো নথি, মামলার কাগজপত্র এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এক পক্ষের দাবি, রবিউল আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিউল ইসলাম চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করে চৌগাছা থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করেই তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বরের একটি নথি সামনে এসেছে। এতে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ওই নথিতে রবিউল ইসলামকে ১০ নম্বর নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য এবং বিশেষ সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করেই চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের পরদিন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা রবিউলকে বিএনপির কর্মী হিসেবে দাবি করে তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রবিউলের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার নথি থাকায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
রবিউলকে আদালতে পাঠানোর পর চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। এর মধ্যে রবিউলের ছেলে আলামিন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে তিনি ওসি মামুনুর রশিদসহ অভিযানিক দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার দাবি, রবিউলকে বিএনপির কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ওসি মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাদের দাবি, রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে পুলিশ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ২০১৮ সালের একটি মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি যশোর আদালতে দায়ের করা জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলার নথিতে রবিউল ইসলাম নিজেকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। মামলার নথিতে তিনি প্রতিপক্ষকে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও উল্লেখ করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চৌগাছার গুয়াতলী গ্রামের বাজে খানপুর এলাকায় মোস্তফার পোল্ট্রি ফার্মের কাছে বোমা হামলার সঙ্গে রবিউল জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিউলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবিউলের বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার স্বাক্ষর করা দলীয় প্যাডে রবিউলকে বিএনপির সদস্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, বিগত ১৩ সালে রবিউল আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিল। সেই কমিটি ১৮ সালে বিলুপ্ত হয়। এরপর সে বিএনপির সঙ্গেই আছে।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীরা তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রবিউল প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করতেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, পুলিশ দিয়ে চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও তারা করেছেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আজিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সেলিম রেজা, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি মহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নাম ব্যব…