বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাউফলে চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন

বাউফলে চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন

বাউফলে চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর বাউফলে ‘গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চক্ষু চিকিৎসার নামে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছাকাছি এবং সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের ফটকের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চললেও এর অনুমোদন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ব্যক্তির যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে সাজানো রয়েছে চক্ষু পরীক্ষার কক্ষ। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য সেখানে একজন স্কুলশিক্ষিকাও অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এখানে চক্ষু চিকিৎসক রোগী দেখেন এবং ভালো সেবা পাওয়া যায়—এমন ধারণা থেকেই তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

তবে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় চেম্বারে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। রিসেপশনে থাকা এক ব্যক্তি জানান, চিকিৎসক দুপুরের খাবার খেতে বাইরে গেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবেন।

প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর এক নারী প্রতিষ্ঠানে এসে চেম্বারে বসেন। পরে তিনি অ্যাপ্রোন পরিধান করে চিকিৎসকের আসনে বসে রোগী দেখার প্রস্তুতি নেন। চক্ষুরোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি ও বিভিন্ন ওষুধের বৈজ্ঞানিক নাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বেশ কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

একপর্যায়ে ওই নারী জানান, তিনি খুলনা থেকে এক বছরের একটি কোর্স করেছেন এবং প্রায় পাঁচ বছর ধরে চক্ষু চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন বা চক্ষু চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ অনুমোদনের কোনো সনদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রদর্শন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র’ পরিচালনার জন্য তাঁর দপ্তর থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্ষুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা এবং সেখানে কারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এ বিষয়ে ‘গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

মোঃ রুবেল হোসেন, বাউফল প্রতিনিধি