মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পাহাড়ের দুর্গম ও প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি রিজিয়ন ও রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সমন্বিত উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনে আয়োজিত এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় উপকৃত হন অসংখ্য রোগী।চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আগত রোগীদের আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দূরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তাদের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও ভোগান্তি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি, রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা, সিও, সিএমএইচ মেজর হাসানসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা।মানবিকতার এ উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা যায়। স্থানীয়রা বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের মতো উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।