শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এত বিকল্প থাকতেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন: ঐশ্বরিয়া

এত বিকল্প থাকতেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন: ঐশ্বরিয়া

এত বিকল্প থাকতেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন: ঐশ্বরিয়া

অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, ডেটিং অ্যাপে পছন্দের মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া বরং আরো কঠিন হয়েছে। তার মতে, এখন এত বেশি বিকল্প যে সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠেছে বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেম, ডেটিং অ্যাপ ও বদলে যাওয়া সম্পর্কের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া। আধুনিক সময়ের ডেটিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘#লাভ’-এ অর্জুন দাসের সঙ্গে দেখা গেছে তাকে।

প্রেমে তীব্রতা নয়, স্বস্তি ও মানসিক সামঞ্জস্য চান এই অভিনেত্রী

ডেটিং অ্যাপে এত বিকল্প থাকায় প্রেম খোঁজা কঠিন হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, “হ্যাঁ, আমি সত্যিই তাই মনে করি। কারণ তখন আপনি কোন পথে এগোবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। আমার মনে হয়, খোঁজটা সবসময় সেই একজন মানুষের জন্য, যিনি আপনার মানুষ। তাই আমার মনে হয়, আগের সময়ের তুলনায় এখন বিষয়টি অনেক বেশি বিভ্রান্তিকর।”

আধুনিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত নতুন নতুন শব্দ নিয়েও মজা করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ভালোবাসা নিয়ে খুবই বিভ্রান্ত। আমাদের নানা ধরনের শব্দ আছে—সিচুয়েশনশিপ, ন্যানোশিপ। শুনেছি ‘বিঞ্জিং’-ও আছে। গতকালই প্রথম শুনলাম। আমার কোনো ধারণাই নেই। আমি ভাবতাম বিঞ্জিং শুধু নেটফ্লিক্সের ক্ষেত্রেই হয়! কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি আছে।”

ঐশ্বরিয়া বলেন, “এত বিকল্প থাকার পরও মানুষের মূল খোঁজটা একই রয়ে গেছে। আমি অবশ্যই মনে করি, এখন নিজের মানুষকে খুঁজে পাওয়া খুবই বিভ্রান্তিকর। আমরা এমন এক বিভ্রান্তিকর সময়ে বাস করছি, যেখানে সেই মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে গেছে।”

সময় গড়ানোর সঙ্গে ভালোবাসা সম্পর্কে তার নিজের ধারণাও বদলেছে। ঐশ্বরিয়ার মতে, “সময় গড়ানোর সঙ্গে আমি বুঝেছি, ভালোবাসা হলো স্বস্তি ও নিরাপত্তা, আর অন্য একজনের সামনে নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারা। এখন, এই মুহূর্তে আমার কাছে ভালোবাসার অর্থ হলো স্বস্তি। আমি মনে করি, সবার আগে আমি মানসিক সামঞ্জস্যকে বেছে নিই। প্রথম কথোপকথন থেকেই আমার সেই স্বস্তি দরকার—নিজের মতো থাকার নিরাপত্তা, নিজের কথা বলার স্বাধীনতা এবং আমি যেমন, তেমনভাবেই গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিশ্চয়তা। তাই আমি পুরোপুরি মানসিক সামঞ্জস্যের পক্ষের মানুষ।”

পাঁচ বছর আগের তুলনায় এখন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ; এমন প্রশ্নেও ঐশ্বরিয়া ফিরে যান মানসিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন, “আমি আবারো এমন একজন মানুষের কথাই বলব, যার কাছে আমি নিরাপদ বোধ করি। তার সামনে যেন আমি শিশুর মতো হয়ে যেতে পারি। আমরা যেন কোনো দ্বিধা বা বিচার ছাড়াই একে অন্যকে সবকিছু বলতে পারি। আমরা স্বাধীন থাকব এবং একসঙ্গে স্বাধীন থাকব। আমার মনে হয়, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো গভীরভাবে বুঝেছেন ঐশ্বরিয়া। তিনি বলেন, “আমরা ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়’ শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ইদানীং আমার নজরে এসেছে। আমার অনেক বিবাহিত বন্ধু, যাদের দাম্পত্য জীবন সফল, তাঁদের মধ্যে আমি বিষয়টি দেখি। তারা জীবনসঙ্গী হওয়ার আগে বন্ধু।”

পর্দায় ঐশ্বরিয়াকে প্রায়ই আবেগঘন ও তীব্র প্রেমের গল্পে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার পছন্দ এখন অনেকটাই আলাদা। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা ‘মায়ানদী’র কথা স্মরণ করে ঐশ্বরিয়ার ভাষায়, “সিনেমাটি একজন অভিনেতা হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমি মনে করি, এটি এখন পর্যন্ত নির্মিত অন্যতম সেরা সিনেমা। আর আমি সিনেমাটি ভালোবাসি, কারণ আমি এতে অভিনয় করেছি বলে নয়। একজন শিল্পী বা অভিনেতার কেমন হওয়া উচিত এবং কী ধরনের সিনেমা আমাদের বেছে নেওয়া উচিত—সে সম্পর্কে আমার ধারণা তৈরিতেও এই সিনেমার ভূমিকা রয়েছে।”

ভালোবাসার গল্পে বাস্তব আবেগই তাকে সবচেয়ে বেশি টানে বলেও জানান তিনি। ঐশ্বরিয়া বলেন, “আমি সবসময়ই ভালোবাসার গল্পে খুব বাস্তব আবেগের দিকে আকৃষ্ট হয়েছি। চরিত্রগুলো দুর্দান্ত হতে পারে, কিন্তু তাদের আবেগ যদি সত্যিকারের হয়, তাহলে একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সেই চরিত্রে কাজ করতে চাইব।”

তবে, বাস্তব জীবনে তার পছন্দ অনেক সহজ। ঐশ্বরিয়া বলেন, “একজন মানুষ হিসেবে আমি সুখী ও সহজ-সরল ভালোবাসার গল্প পছন্দ করি। তীব্র, কষ্টদায়ক গল্পে আমি ক্লান্ত।” তিনি মনে করেন, বিষাদময় প্রেমের গল্প অনেক সময় বেশি মনে দাগ কাটে, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সুখী সমাপ্তিই পছন্দ করেন।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা